১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধরা খেয়ে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি : ৫ আগস্টের পর মামলার শিকার হয়ে নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫) পালিয়ে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। সেখানেও শেষরক্ষা হয়নি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আটক হন তিনি। ১৫ দিন কারাভোগের পর শনিবার রাত ১টার দিকে দেশে ফেরেন সাগর।পরে বিমানবন্দরে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।নুরুল ইসলাম সাগর ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর আগস্টে দেশ ছাড়েন তিনি।নুরুল ইসলাম সাগর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।স্বজনরা জানায়, রাত ১টার দিকে নুরুল ইসলাম সাগর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। এরপর তার বুকে প্রচণ্ড বুকে ব্যথা ওঠে।
বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাগরের ছোট বোন শেফালি আক্তার আরজু বলেন, ‘বাড়িতে এলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ দুশ্চিন্তা থেকে আমার ভাই হার্ট অ্যাটাক করেছেন।’সাগরের বাবা মো. শাজাহান বলেন, ‘রাত ২টার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলে ঢাকা বিমানবন্দরে মারা গেছেন বলে জানায়।মরদেহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরে দুই প্রতিবেশীকে নিয়ে সাগরের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরি।’
সাগরের প্রতিবেশী জামসেদুল আলম বলেন, ‘তিনি চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। বাড়িতে এলে হামলা-মামলার শিকার ও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকে হার্ট অ্যাটাক করতে পারেন।’
এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে সেখানে মারা যান। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী পরিবারকে জানানো হয়।’
তবে মামলা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার নামে ঠিক কয়টি মামলা রয়েছে বলা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।’

আরও পড়ুন