১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট ও সীমিত সরবরাহের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা।কোথাও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে।রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকা থেকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসেছেন হুসাইন সাগর।
অন্য পাম্পের তুলনায় এখানে যানবাহনের চাপ বেশি। কারণ, সেনা পরিচালিত এই পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী ট্যাঙ্কি পূর্ণ করে তেল নেওয়ার সুযোগ থাকে।তবে গতকাল রাতেও মোটরসাইকেল প্রতি ১০০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও আজ তা কমিয়ে ৮০০ টাকায় নামানো হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
হুসাইন সাগর বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নামার পর লাইন ধরেছি। প্রায় ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাম্পে পৌঁছেছি কিন্তু এখন ১০০০ টাকার বদলে ৮০০ টাকার তেল দিচ্ছে। কারণও জানায় না। কিছু বললে লাইন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।’
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, পরীবাগের মেঘনা সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে তেল নিতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অন্যদিকে, পরীবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ৮০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মেঘনা ফুয়েল পাম্পে তা আরও কমিয়ে ৬০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করতে। চালকদের উদ্দেশে তারা বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী তেল নিতে হবে। না নিলে লাইন থেকে বের হয়ে যেতে হবে।’
মেঘনা ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. আশিক বলেন, ‘ভোর পৌনে ৬টা থেকে লাইনে আছি। এখনো তেল পাইনি। কখন পাব তাও নিশ্চিত না।’
মগবাজার থেকে আসা আরেক চালক মো. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অন্তত আরও আধা ঘণ্টা লাগবে। আগে ১০ লিটার তেল দেওয়ার কথা ছিল, এখন শুনছি ৬০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করে এত কম তেল পাওয়া কষ্টকর।’
মেঘনা ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী মো. ইয়াসিন বলেন, ‘গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত তেল দিয়েছি। একপর্যায়ে পাম্পে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতে চারবার পাম্প বন্ধ করে আবার চালু করতে হয়েছে। তখনও লাইনে হাজার হাজার মানুষ ছিল।’জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন