স্বাস্থ্য ডেস্ক : বুকের বাঁ দিকে চিনচিনে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক—এমন ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু সব সময় যে তীব্র বুকব্যথাই একমাত্র লক্ষণ হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো জটিলতা ঘটার আগেই হৃদযন্ত্র শরীরকে নানা ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলোকে আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই, অথচ সেগুলো হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।হার্ট অ্যাটাক সব সময় তীব্র বুক ব্যথা দিয়ে শুরু হয় না—শরীরের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
১। অস্বাভাবিক ক্লান্তি
হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগছে, কিন্তু স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না—এমন হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অকারণ তীব্র ক্লান্তির সঙ্গে হৃদরোগের যোগ থাকতে পারে।দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করতেই যদি প্রচণ্ড অবসাদ আসে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২। দমবন্ধ ভাব বা বুকে চাপ ধরা
হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, এমনকি সোজা হয়ে শোয়ার সময়ও যদি বুকে চাপ লাগে বা শ্বাসকষ্ট হয়, তা অবহেলা করবেন না। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
৩। শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা
হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলে শুধু বুকে নয়, চোয়াল, বাঁ হাত, কাঁধ, গলা বা পিঠের ওপরের অংশেও ব্যথা ছড়াতে পারে। অনেকেই একে গ্যাসের ব্যথা ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুর মাধ্যমে এই ব্যথা শরীরের অন্যান্য অংশে অনুভূত হয়।
৪।হজমের সমস্যা
সাধারণ খাবার খাওয়ার পরও পেটফাঁপা, অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা হলে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলোকে অনেক সময় অ্যাসিডিটি বলে ধরে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও হজমের গোলমাল হৃদরোগের সতর্কবার্তা হতে পারে। শুধুমাত্র অম্বলের ওষুধ খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
১। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
২। সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন।
৩। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।
৪। মানসিক চাপ কমান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
হৃদরোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সন্দেহজনক কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।সূত্র : এই সময়





