১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিএমপির অভিযানে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মারুফ হোসেন তুষার (২১), মো. বাবু (২৭) ও মেহেদী হাসান প্রকাশ হাসান (২২)। তাদের কাছ থেকে রিভলভার, পিস্তল, এসএমজি, গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে সিএমপির সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রকাশ রিমন ইমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।রিমন ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী।
মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ মনির নামে আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সায়েমের দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর বলেন, অস্ত্রগুলো খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশ নিতো। গ্রেপ্তার রিমন ইমনের কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। গ্রেপ্তার মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সহযোগীদের ধরতে এবং আরও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন