১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুব বিদ্রোহ দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ৯৭তম যুব বিদ্রোহ দিবসে আজ শনিবার সকাল ৮টায় নগরীর জেএমসেন হলে জাতীয় বীর বিপ্লবী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন-এর আবক্ষ মূর্তিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পরিষদের সভাপতি, সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ শেখর দত্তের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য,বিপ্লবী পরিবারের সদস্য প্রবীর দাশগুপ্ত নন্তু, শিক্ষক প্রনতোষ নাথ, শিক্ষক মানস কুমার দাশগুপ্ত, শ্রমিক নেতা এম নুরুল হুদা চৌধুরী,হৃসুক পএিকার সম্পাদক তারানাথ চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে একই সূত্রে গাঁথা। বিপ্লবীদের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো-আমাদের দেশে এখনো ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় না।
তারা উল্লেখ করেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ আন্দোলন, ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন, সিপাহি বিদ্রোহী আন্দোলন, তিতুমীর-এর বাঁশের কেল্লা দিবস, যুব বিদ্রোহ দিবস, জাতীয় বীর বিপ্লবী মহানায়ক ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার-এর ফাঁসি দিবস এবং বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর আত্মাহুতি দিবসসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রধান দিবসগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার জন্য গত ১২ বছর ধরে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। এসব দিবসগুলো পালন করতে রাষ্ট্রের কোনো অর্থের অপচয় হয় না-তবুও প্রতিদিন কোন না কোন দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলেও এসব ঐতিহাসিক দিবস উপেক্ষিত।
আজকের যুব বিদ্রোহ দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী পত্রিকায় না আসাতে বক্তারা বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।
পরিশেষে সরকারের কাছে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে নিম্নলিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান।
১. ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল যুব বিদ্রোহের স্থান জালালাবাদ পাহাড় সংরক্ষণ, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন এবং স্থানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি।
২. চট্টগ্রাম দামপাড়া পুলিশ লাইন–এ অবস্থিত “পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর”-এর নাম পরিবর্তন করে “চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহ ও পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” করার দাবি।
৩. জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে মাস্টারদা সূর্য সেনের সঙ্গে একই দিনে, একইন সময়ে ফাঁসিতে প্রাণদানকারী বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের দাবি।
৪. বিপ্লবীদের বাড়িঘর ও জমিজমা সরকারিভাবে উদ্ধার করে আগামী প্রজন্মের জন্য স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি।
৫. পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব–কে বাস্তব অর্থে পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপান্তরের দাবি।
৬।ঐতিহাসিক যাত্রা মোহন সেনের বাড়ির নাম বর্তমানে “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” থেকে পরিবর্তন করে “যাত্রা-যতীন-নেলী সেনগুপ্ত জাদুঘর” নামকরণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি দ্রুত জাদুঘর বাস্তবায়নের জন্যও জোর দাবি জানান।

আরও পড়ুন