২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিরসরাইয়ে চুলা বন্ধ সাড়ে চার লাখ মানুষের: তীব্র এলপিজি সংকট

মিরসরাই প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপজেলা মিরসরাইয়ে ভয়াবহ এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অধিকাংশ বাড়িতে রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে গেছে, বিপাকে পড়েছে গ্যাসনির্ভর মিল-কারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
দেশের অন্যতম বৃহৎ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে একের পর এক শিল্পকারখানা, আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ না থাকায় এসব এলাকায় রান্না ও উৎপাদনে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারৈয়ারহাট, করেরহাট, শান্তিরহাট, আবুতোরাব বাজার, বড়তাকিয়া, মিরসরাই সদর, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া ও নিজামপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে— অধিকাংশ দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।আবুতোরাব বাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তিন দিন ধরে বাসায় গ্যাস নেই। বাজারে ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।’
বড়তাকিয়া বাজারের একটি খাবার হোটেলের মালিক মো. রিপন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস না থাকায় দোকান প্রায় বন্ধ রাখার মতো অবস্থা। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই সংকট চললে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’
স্থানীয় বিএম গ্যাস ও যমুনা গ্যাসের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। এক ডিলার জানান, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত গ্যাস আসছে না। যে পরিমাণ আসে, তা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়।’
এদিকে এলপিজির দাম বাড়বে নাকি কমবে— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে রবিবার (৪ জানুয়ারি)। তবে একটি গ্যাস কোম্পানির প্রতিনিধি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারে জটিলতার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এলপিজি সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে শিল্পাঞ্চল মিরসরাইয়ে জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন