অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুত ভোটের ৬টি সিল জব্দের ঘটনায় জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ ও ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে শরীফ ও সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। জানা গেছে, এ মামলায় আটক সোহেলকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
জাল ভোট প্রদানের লক্ষ্যে জামায়াত নেতা শরীফ অর্ডার দিলে সোহেল সিলগুলো বানিয়ে দোকানে রাখেন। তবে আত্মগোপনে রয়েছেন জামায়াত নেতা।এদিকে, সিল জব্দের পরপরই বিএনপি পক্ষ থেকে আটক সোহেলকে জামায়াত কর্মী দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সিল বানানোর অর্ডার দেওয়া জামায়াত নেতা শরীফের ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে। তিনি হাসপাতাল রোডের ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ এর মালিক।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিয়ে জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকায় বশিরভিলা হলরুমে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে করে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এই সিল কাণ্ডে তিনি জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।জাল ভোটসহ জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র করার লক্ষ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ্যানি চৌধুরী বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিভাবে হয় এটা প্রমাণসহ মারইয়াম প্রিন্টার্স থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে। শুধু বোরকা নয়, বোরকার ভেতরে সিলকৃত ব্যালট থাকার মতো পরিস্থিতি জামায়াত সৃষ্টি করেছে। বোরকার ভেতরেই এই প্রচেষ্টা তারা করবে’। এ ঘটনায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয় বলে জানান। শরীফের সংশ্লিষ্টার প্রশ্নে তিনি ঘটনার তদন্ত করে যেই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন তাকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানান।
জেলা জামায়াতের আমীর ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সিলগুলো জব্দের পরপরই শরীফকে আমরা দল থেকে বহিস্কার করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে।’
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মারইয়াম প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে তার দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ৬টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।আটক সোহেল রানার বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জামায়াতের শরীফ গত ৩০ জানুয়ারি সোহেলের কাছে ৫টি নির্বাচনী সিলের অর্ডার করে। এ সংক্রান্ত একটি ভয়েস ম্যাসেজ তিনি সোহেলকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে জাল ভোট প্রদানের জন্য অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করানো হয়েছে। সদর মডেল থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, ‘আসামি সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি। অপর আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। আর কেউ জড়িত আছে কি না ঘটনাটি তদন্ত চলছে।’





