নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হবে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ব্যবসা-বাণিজ্যের হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। এটিও শুধু বাংলাদেশের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বন্দর নিমতলা খালপাড় থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় এসব কথা বলেন। এসময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দর ও সমুদ্র অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং পোর্টে রূপান্তরের কথা বলেছেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণসংযোগ নগরের নিমতলা খালপাড় হয়ে পূর্ব নিমতলা পশ্চিম নিমতলা হয়ে সিডিএ ৯ নম্বর ব্রিজ, রোহিঙ্গা পাড়া, হিন্দু পাড়া ৩ নম্বর ফকিরহাটপশ্চিম গোসাইলডাঙ্গা, এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিএনপির দেশ পরিচালনার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরকে ঘিরে পুরো বেল্ট এলাকা হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক্যাল হাব। এখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও লেনদেন পরিচালিত হবে। এই অঞ্চল সারাদেশের ট্রেডিং পোস্ট হিসেবে এবং ম্যানুফেক্চারিং সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হবে। শিল্প-কারখানা, রপ্তানি-আমদানি, উৎপাদন ও বিতরণ সব কিছুরই কেন্দ্রবিন্দু হবে চট্টগ্রাম।
গণসংযোগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর থেকে শুরু করে আধুনিক ওয়্যারহাউজ, কনটেইনার ডিপো, শিপিং সার্ভিস এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এখানে থাকবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,আলাদা করে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার কোনো দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে। এর ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের সুবিধা এটিকে স্বাভাবিকভাবেই একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমীর খসরু বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, এটি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। অযথা হৈ-হুল্লোড় করা যাবে না। রাজনীতির ধরন এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন আর জোরে চিৎকার করে বা মিছিল করে মানুষকে আকৃষ্ট করার দিন নেই। সবাইকে সরাসরি মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের সাথে কথা বলতে হবে। মানুষের কাছে বিএনপির দেশ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমুখী নীতি-পরিকল্পনা পৌঁছে দিতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক কাজী বেলাল সদস্য বিএনপি নেতা মো. মুছা, মো. সবুর, বিএনপি নেতা জাহিদ হাসান, নুরুল আমিন, মো. হারুন, হুমায়ুন কবির সোহেল, আবু সাঈদ হারুন, মো. শাহজাহান, মো. নেজাম উদ্দিন প্রমুখ। আমীর খসরু আরো বলেন, আমাদের কাজ হবে শান্তিপূর্ণভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের সমস্যা শোনা এবং সমাধানের পথ দেখানো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করে। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে জনগণের রাজনীতি। আমরা জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতা পাই এবং জনগণের সেবা করার জন্যই ক্ষমতায় যাই। বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, ভুয়া প্রতিশ্রুতি বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করে না। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পাহারাদার। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যতবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে। আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক, গণমুখী এবং জনমুখী। আমরা গণতন্ত্রের উপর আস্থা রাখি এবং জনগণের রায়কেই চূড়ান্ত বলে মনে করি। যারা অন্যভাবে রাজনীতি করছে জনগণ তাদের সবকিছু দেখছে এবং বুঝছে। সঠিক সময়ে জনগণ তাদের রায় দেবে। বিএনপি জনগণের সেই রায়ের অপেক্ষায় আছে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের উপর ভর করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।





