১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুণ্যার্থীতে মুখর চন্দ্রনাথ ধামের শিবচতুর্দশী মেলা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলার আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিন। এ উপলক্ষে মেলায় লাখো সনাতনী পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। সোমবার ভোর থেকে দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে আসতে শুরু করে চন্দ্রনাথ ধামে। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের মন্দির সড়ক থেকে চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরসহ পুরো কলেজ রোড এলাকা।জাগতিক পাপ মোচন ও পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন। তারপর পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন সমতল ভূমি থেকে এক হাজার ২০০ ফুট ওপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরের দিকে। আয়োজকরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি তীর্থস্থান। আনুমানিক ৫০০ বছর আগে ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা।
তখন থেকে এ মেলা ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেঁটে ধামে পৌঁছান। কলিযুগের মহাতীর্থখ্যাত ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করা হয়।
সীতাকুণ্ড তীর্থধামের পণ্ডিত রাজীব ভরদ্বাজ জানান, তিন দিনব্যাপী এবারের শিবচতুর্দশী মেলায় রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শিবচতুর্দশী তিথি আরম্ভ হয়। তা সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।পুণ্যার্থীরা এই তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে এসে মঠ-মন্দির দর্শনসহ দেবাধিদেব মহাদেবের আরাধনা করবেন।
সীতাকুণ্ড রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, শিবচতুর্দশী মেলায় তীর্থযাত্রী আনা নেওয়ার সুবিধার্থে গত শুক্রবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে ছয়টি এক্সপ্রেস ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দুই মিনিট করে থামবে।
মেলায় আসা পুণার্থী যাতায়াতে সীতাকুণ্ড স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনগুলো হলো চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ঢাকা মেইল, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস, চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস।
চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনে সপরিবার রংপুর থেকে আসা পুণ্যার্থী মন্টু মণ্ডল জানান, তারা রিজার্ভ বাস নিয়ে শিবচতুর্দশী মেলা পরিক্রমা করতে রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে আসা অন্য তীর্থযাত্রীরা মঠ-মন্দিরে উঠলেও তিনি উঠেছেন আত্মীয়ের বাসায়।সোমবার ভোরে ব্যাসকুণ্ডে স্রান সেরে সবাইকে নিয়ে উঠেছেন চন্দ্রনাথ মন্দিরে। সেখানে দেবাদিদেবের পূজার্চনার পর আবার নিচে নেমে এসেছেন। এদিন সন্ধ্যায় শিবচতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার পর তাঁরা ব্যাসকুণ্ডে পিতৃপুরুষের জন্য তর্পণ ও পিণ্ডদান করবেন। এরপর পুনরায় বাড়ি ফিরে যাবেন তাঁরা।
কক্সবাজার চকরিয়া থেকে আসা আরেক পুর্ণার্থী রতন শীল বলেন, রবিবার বিকেলে শিবচতুর্দশী তিথি শুরুর পর ব্যাসকুণ্ডে স্নান সেরে তাঁরা স্বপরিবারে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শনে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে অর্ঘ্য প্রদানের পাশাপাশি মঙ্গল কামনায় শিবের মাথায় জল ঢালেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, শিবচতুর্দশী মেলা ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে উপজেলার প্রত্যেক মঠ, মন্দিরসহ পুরো এলাকা। মেলায় আসা সনাতনী পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম।
মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম বলেন, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। চিকিৎসকদের একটি দল এবং আনসারের পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।

আরও পড়ুন