অনলাইন ডেস্ক: মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘প্রার্থী’ মো. দুদু জোদ্দারের পোস্টার। পোস্টারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি এবারের নির্বাচনে কুলা মার্কায় ভোট করবেন। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে তিনি ‘ভুয়া প্রার্থী’।কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) সংসদীয় আসনে দুদু জোদ্দার নামের কোনো প্রার্থীর বৈধতা নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। ভোটের আর মাত্র ৫ দিন বাকি থাকলেও দুদু জোদ্দারের নামে এখনো টাঙানো আছে পোস্টার। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন এই আসনের ভোটাররা।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বৈধ প্রার্থীরা।নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দুদু জোদ্দারকে খুঁজছে তারা। তবে এ বিষয়ে দুদু জোদ্দারের বক্তব্য নিতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা সবার বৈধ ঘোষণা করেন।পরে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী কে এম ফজলুল হক মন্ডল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালতের আদেশে সেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল হয়। এরপর সাতজন বৈধ প্রার্থীর জন্য প্রতীক বরাদ্দ করে নির্বাচন অফিস। প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা।
এ অবস্থায় হঠাৎ করে দুদু জোদ্দার নামের এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে।তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করে ‘কুলা প্রতীকে’ ভোট চেয়ে পোস্টারিং ও প্রচারণা শুরু করেন। তার এই কর্মকাণ্ডে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন ধানের শীষ প্রতীকে মো. আজিজুর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল মন্ডল। এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাফিজুর রহমান, কেচি প্রতীকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) রাজু আহমেদ ও মই প্রতীকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে নির্বাচন করছেন মো. রুকুনুজ্জামান, যার প্রতীক বালতি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুদু জোদ্দার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল নতুন আশ্রয়ণ কেন্দ্র এলাকার ধনীয়া জোদ্দারের ছেলে। এর আগেও তিনি উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিচয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ‘হেলিকপ্টার’ প্রতীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করে পোস্টারিং ও মাইকিং করেছিলেন। যা সে সময় আলোচনায় ছিল।সহাকরী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক কালের কণ্ঠকে বলেন, দুদু জোদ্দার বিভিন্ন নির্বাচনে এভাবে নিজেকে প্রার্থী দাবি করে পোস্টার সাঁটান। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।





