২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন গায়িকা, এখন হাসপাতালে

বিনোদন ডেস্ক : কলকাতার গায়িকা দেবলীনা নন্দী। তাঁর সুরের জাদুতে মুগ্ধ শ্রোতারা। একরাশ হাসি, প্রাণোচ্ছ্বাস আর মিষ্টি কণ্ঠেই অনুরাগীদের কাছে তাঁর পরিচয়। কখনো ঝলমলে মঞ্চে গান, কখনো আবার ঘরোয়া ভ্লগে একেবারে পাশের বাড়ির মেয়ের মতো সহজ-সরল উপস্থিতি।বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, তাঁর জীবন বুঝি শুধুই সুখ আর সাফল্যের গল্প। কিন্তু সেই ধারণায় এবার চিড় ধরালেন স্বয়ং দেবলীনা। নিজের অজানা কষ্টের কথা সামনে এনে জানালেন, কিভাবে নীরবে তিলে তিলে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন দেবলীনা।এখন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। গায়িকার আরোগ্য কামনায় তাঁর অনুরাগীরা। ২০২৪-এ পেশায় এক পাইলটের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। আপাতদৃষ্টিতে যে সম্পর্ককে রূপকথা মনে হয়, তা-ই যেন দেবলীনার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল।ফেসবুক লাইভে এসে যাবতীয় ক্ষোভ-দুঃখ ঢেলে দিলেন তিনি।
দেবলীনার কথায়, স্বামীর পরিবারের চাপেই ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। একসময় তাঁকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে সংসার আর নিজের মায়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, গায়িকার অভিযোগ, তাঁর গানের ক্যারিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এই টানাপড়েন ও মানসিক চাপই ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নেয়, যা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
লাইভে এসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মেয়ে আর ছেলের মধ্যে এত পার্থক্য কেন? একটা ছেলেকে সংসার আর পেশার মধ্যে কেন একটা বেছে নিতে বলা হয় না? মেয়েদের ক্ষেত্রেই কেন এটা হয়? মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বলে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব শেষ? আমার মাকে নিয়ে অনেকের অনেক সমস্যা। সেটা আমার মা-ও জানে। প্রথম সমস্যা হচ্ছে, আমার মা নাকি দেখতে ভালো না। দ্বিতীয় হলো, মা নাকি পড়াশোনা জানেন না। তৃতীয়ত, আমার মা নাকি যা বলে, মুখের ওপর বলে। এটা নিয়ে কাছের লোক, দূরের লোক সবারই সমস্যা। এবার সমস্যা হলো, আমার মাকে তাদের পোষায় না বলে আমি মাকে ছেড়ে দেব? মা জাহান্নামে যাক, আমায় মাকে ছেড়ে দিতে হবে!’
এখানেই থামেন না দেবলীনা। জানান, যে মা তাঁকে জীবনে সফল হওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁকে ত্যাগের কথা তাঁর ভাবনাতীত। দুই পরিবারকে একই রকম গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও নাকি সন্তুষ্ট হয়নি গায়িকার স্বামীর পরিবার। শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ভালো নেই। এই কথাটা বলতে বুকে অনেক সাহস লাগে। আজ বললাম। আমি সারাক্ষণ ভালো থাকার নাটক করি। কিন্তু আমি খুশি নেই। শুধু ভান করি। জীবনের ভালো জিনিসগুলোই সবার সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করি। কিন্তু এবার আমি হাঁপিয়ে গিয়েছি। একটা সীমা থাকে। সেই সীমা পার হয়ে গেছে। সব কিছুর একটা শেষ আছে। ইতি টানা দরকার।’

আরও পড়ুন