৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে চালকদের দীর্ঘ লাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে চালকদের ভিড় বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। এতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও পদ্মা অয়েল থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে। গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করছে তারা।
পাম্প কর্মচারীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দেড় থেকে দুইগুণ বেশি যানবাহন তেল নিতে আসছে। অনেক চালক সরাসরি ফুল ট্যাংক নিতে চাইছেন। এতে প্রতিটি গাড়িতে তেল দিতে বেশি সময় লাগছে এবং লাইনে চাপ বাড়ছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর গণি বেকারি মোড়ের কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত গাড়ির লাইন। চান্দগাঁও স্টেশনেও গাড়ির অতিরিক্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে কর্মচারীদের দ্রুত তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচলাইশ, ষোলশহর, অক্সিজেন ও নতুন ব্রিজসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে গাড়ির চাপ বেড়েছে। বেশিরভাগ চালকই ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পাম্পে মজুত দ্রুত কমে গেছে। এদিকে গত শুক্রবার থেকেই নগরের বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। অযথা বেশি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তেলের সংকট হয়েছে বলা হচ্ছে, এটি ঠিক নয়।
চান্দগাঁও ফিলিং স্টেশনের অপারেটর সেলিম উল্লাহ জানান, তাদের কাছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং দামও বাড়েনি। তবু আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছেন।

আরও পড়ুন