২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বামপন্থীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ (মার্কসবাদী), বাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থী দলের মনোনীত প্রার্থীরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতি মধ্যে চট্টগ্রামে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত কয়েকজন প্রার্থী গণসংযোগ থেকে শুরু করে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছে বিভিন্নস্থানে। এর মধ্যে কাস্তে প্রতীকে সিপিবির প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনে সেহাব উদ্দীন সাইফু, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রমোদ বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে মো. মছিউদ্দৌলা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রমোদ বড়ুয়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, জেলা কমিটির সভাপতি অশোক সাহা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাশগুপ্ত, আবদুল আউয়াল, লতিফ শাহ, বাবুল শীল উপস্থিত ছিলেন।
এক পথসভায় মৃণাল চৌধুরী বলেন, আমরা সিপিবিসহ মোট নয়টি রাজনৈতিক দল মিলে বিকল্প শক্তি গড়ার তাগিদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। সেই যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রমোদ বড়ুয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ হবে কোনো পরিবার বা গোষ্ঠীর নয়, এ বাংলাদেশ হবে গরিব, কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের প্রগতিশীল বাংলাদেশ। আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকেও ধারণ করতে চাই। নির্বাচনের পাশাপাশি রাজপথেও বিকল্প গড়ার সংগ্রাম জোরদার করব।
এছাড়া মছিউদ্দৌলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী ও জামাল উদ্দিন, প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও সিপিবি সীতাকুণ্ড উপজেলার সভাপতি জহিরউদ্দিন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নেতা নারায়ণ প্রসাদ বিশ্বাস ও আকবর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মছিউদ্দৌলা বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা সীতাকুণ্ডে শত, শত কারখানা গড়ে উঠেছে। হাজার, হাজার শ্রমিক সেখানে কর্মরত আছে। এসব শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের ন্যুনতম সম্মানজনকভাবে বাঁচার অধিকারটুকুও রাষ্ট্র দিতে পারছে না। আমি একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে দীর্ঘসময় ধরে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আছি। সীতাকুণ্ডের মানুষ শান্তিপ্রিয়, অসাম্প্রদায়িক। আমরা সিপিবির পক্ষ থেকে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, সীতাকুণ্ডে সর্বস্তরের মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াবে।
এছাড়া সেহাব উদ্দীন সাইফু রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সিপিবির সভাপতি কানাই লাল দাশ, জেলা কমিটির সভাপতি অশোক সাহা, ডা. অসীম কুমার চৌধুরী, জামাল আবদুল নাসের, অ্যাডভোকেট অসীম বিকাশ দাশ ও সনদ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
সেহাব উদ্দীন সাইফু বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লড়াই-সংগ্রাম গড়ে তোলার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। একইভাবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে লালন করে আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। আমি ২০১৮ সালেও এ আসন থেকে সিপিবির প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু কালো টাকা, পেশিশক্তির প্রভাব ও নৈশভোটের ওই নির্বাচনে আমরা সুন্দরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি। এবার যেন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়, সেই প্রত্যাশা করছি।
বামপন্থী আরেক দল কাঁচি প্রতীকের বাসদ(মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থীরা তিনটি আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে শফি উদ্দিন কবির আবিদ, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, খুলশী-হালিশহর) আসনে আসমা আক্তার ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে দীপা মজুমদার।মহানগরীর তিন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তিন প্রার্থী আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তিন প্রার্থী ছাড়াও দলটির নেতাদের মধ্যে জেলা কমিটির সদস্য জাহেদুন্নবী কনক, সদস্য রিপা মজুমদার,নেভী দে, আল জাওয়াদ মুস্তাকিম, রিপা মজুমদার, সুমি আকতার, নিতিশ নাথ, পুষ্পিতা নাথা উপস্থিত ছিলেন।
শফি উদ্দিন কবির আবিদ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজস্ব নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন জোট গঠন, দলবদল ইত্যাদির মাধ্যমে নীতিহীন ও সুবিধাবাদী রাজনীতির চেহারা আরেকবার উম্মোচিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানাই। আমরা জনগণের কাছে আহবান জানাই- মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যায্য মজুরি-কাজ ও রেশন নিশ্চিত, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা বন্ধসহ জনজীবনের সংকট নিরসনে আপনারা কাঁচি মার্কায় ভোট দিন।
এদিকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আল কাদেরী জয়। তিনি মই প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এ সময় বাসদ জেলা কমিটির সদস্য হেলাল উদ্দিন কবির, আকরাম হোসেন, আহমদ জসীম, পুলক দাশ, মাহমুদুল হাসান, নাজমুল হাসান, নাজিম উদ্দীন বাপ্লী, সুপ্রীতি বড়ুয়া, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব মনির হোসেন, মোহাম্মদ মোর্শেদ, হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ ফারুক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আল কাদেরী জয় বলেন, এ দেশের সাধারণ জনগণের অবস্থা পালটাতে হলে দরকার ব্যবস্থা বদলানোর সংগ্রাম করা। নির্বাচন এলে কালোটাকা, ঋণখেলাপী, পেশিশক্তি, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার করে সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করা হয়। এর বিপরীতে গরিব, মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে মই মার্কায় প্রার্থী হিসেবে আমি সবার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

আরও পড়ুন