১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন, বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক : বড় কোনো সহিংসতা ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ভোটের আগের দিন থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ২৫ স্থানে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুইজন নিহত ও দুই শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গতকাল রবিবার খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ব্রাহ্মণাড়িয়ায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর দুই সমর্থক।এ ছাড়া রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর একজন সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এর আগে গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর দুই সমর্থক নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা-৫ আসনের অধীন ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ায় শোকর আকুঞ্জি নামে জামায়াতের প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শোকর আকুঞ্জি অভিযোগ করে বলেন, দাঁড়িপাল্লার সমর্থক হওয়ায় ভোটের পর একই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারাই আগুন দিয়েছেন। এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ বলেন, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতের রুকন ও ইউনিট সভাপতি। ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি।এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বিকেলে সেখানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে গতকাল রবিবার ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির। জানতে চাইলে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সানওয়ার হোসাইন বলেন, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি।এদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির এক নেতাসহ দুজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের নদীপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা বলছেন— তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।হামলায় আহত সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও তার চাচাতো ভাই নায়েব আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আহতদের পরিবার ও পুলিশ জানায়, ভোটের আগের দিন রাতে আমিরপাড়া গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে ‘অনিয়ম’ দেখতে যান ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। এ সময় মিজানুর ও স্থানীয় যুবদল সভাপতি জহিরুল হক তাকে আটক করেন। এ ঘটনার জেরে গতকাল রবিবার মিজানুর ও তার ভাইয়ের ওপর হামলা করে।
আহত মিজানুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহকে ভোটের আগের রাতে টাকাসহ আটক করায় গতকাল তিনি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। হামলায় আমার ডান হাতে আঘাত লাগে। বাঁচাতে এগিয়ে এলে চাচাতো ভাই নায়েব আলীকেও তারা মারধর করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ বলেন, নদীর পাড়ে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমার ভাই কালন মিয়াকে উদ্দেশ করে মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন বলছিলেন, ‘হের ভাই জামায়াতের নেতা, জামায়াত কিভাবে এত ভোট পেয়েছে, বিষয়টি দেখার আছে।’ এ নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে মিজানুরের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর পড়ে গিয়ে আহত হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সর্মথকদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার দুপুরে পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত আহসান হাবীবকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহসান হাবীব এই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হকের (শিমুল) ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। হাবীব অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধানের শীষের সমর্থকরা আমার ওপর হামলা চালায়।

আরও পড়ুন