নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলছে শ্রমিকদের। এর ফলে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেডে, ইয়ার্ডে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।সরেজমিন দেখা গেছে, বারিক বিল্ডিং মোড়ে বন্দরের ১ নম্বর গেটে কিছু ট্রাক সিরিয়াল ধরে ভেতরে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে।বাকি গেটগুলো খোলা থাকলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহন নেই। সংগ্রাম পরিষদের কয়েকজন নেতা এসে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন।এদিকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি পণ্য জাহাজিকরণ না হওয়া, পোর্ট ডেমারেজ, সাপ্লাই চেন ইত্যাদি বিবেচনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে আসবে না ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে।তিনি জানান, বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জেটিতে জাহাজ আনা নেওয়া, অফডক থেকে কনটেইনার আনা নেওয়া, বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে।তিনি বলেন, বন্দরে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতির পর ২৪ ঘণ্টার কর্মসূচি দিয়েছিল পরিষদ। এরপরও সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি আমরা।
এদিকে মঙ্গলবার স্কপের বন্দর অবরোধ কর্মসূচি থেকে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ, শ্রমিকনেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করেছে। যদিও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।





