২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্রেপ্তার-হাজতবাস আমাকে নতুন করে মানুষ চিনিয়েছে: নুসরাত ফারিয়া

বিনোদন ডেস্ক : গ্রেপ্তার ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা—এই কয়েক মাস পর অবশেষে সে সময়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন ঢাকাই ছবির নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী দুই দিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করেছে।
নুসরাত ফারিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে—এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে তখন দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। গানের শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রথম উপলব্ধি করেন।
পডকাস্টে ফারিয়া বলেন, ‘ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু আমাকে যখন ডিটেনশন রুমে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন বুঝলাম—আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।’
কারাগার থেকে মুক্তির পরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী জানান, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনই তাকে জীবনের বড় এক শিক্ষা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।
নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই ঘটনার পর তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার সঙ্গে তোলা ছবি সরিয়ে ফেলেছেন। অনেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, যেন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চান—এই সময়ে তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে তারা আগ্রহী নন। ফারিয়া বলেন, ‘এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—কে আমার আপন, আর কে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোকেও নতুন করে চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও, তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা—সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি।’
তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেই কিছু মানুষের ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে বলে জানান নুসরাত ফারিয়া। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর যাদের সঙ্গেই তার দেখা হয়েছে—বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে শিশুদের চোখেও তিনি সহানুভূতির দৃষ্টি দেখেছেন। ‘ওদের চোখে মনে হয়েছে, তারা বলতে চায়—আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছি, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল পথে যাচ্ছে।’
উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে ফারিয়া জানান, তাকে এক দিন ও এক রাত কারাগারে থাকতে হয়েছিল। জেলের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভেতরে জেলারের শুরু করে অন্য সবাই তাকে সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গেই ব্যবহার করেছেন। ‘আমি বলব, আমি ভীষণভাবে ব্লেসড ছিলাম। এটা আমার জীবনের একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা।’
তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কনফিডেনশিয়াল। সবাই জানুক—আমি তা চাই না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, আমাকে খুব রেসপেক্টেডভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের অসম্মান ছিল না, বরং ভালোবাসাই পেয়েছি।’
নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তিনি কিছু খেতে পারেননি। ‘কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।’
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু মনে করতে পারি—আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে, আর তারা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না।’
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। ওই কঠিন মুহূর্তে তারা আমার সঙ্গে কোনো স্বার্থ ছাড়াই শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন