৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর ৫ কার্যকর টিপস

অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সময়ে অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা। মোবাইল, টিভি, ভিডিও গেম আর সোশ্যাল মিডিয়ার আকর্ষণে অনেক শিশুই বই থেকে নিয়মিত দূরেই সরে যাচ্ছে। ফলে পড়াশোনা তাদের কাছে আনন্দের বদলে দায়িত্ব বা চাপ বলে মনে হয়।অথচ সঠিক উপায়ে ধীরে ধীরে পড়াকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে শিশুরা নিজেরাই শেখার দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠে।নিয়মিত অভ্যাস ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পড়াশোনাই তাদের প্রিয় কাজ হয়ে উঠতে পারে। কিভাবে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।শিশুর পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর প্রথম শর্ত হলো নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা। প্রতিদিন একই সময়ে পড়তে বসলে শিশুর মনের মধ্যে স্বাভাবিক প্রস্তুতি তৈরি হয়।শুরুতে অল্প সময় পড়ানো ভালো, যাতে মানসিক চাপ না পড়ে। ধীরে ধীরে সময় বাড়ালে পড়াশোনার প্রতি অস্বস্তি কমে এবং মনোযোগ বাড়ে।
পড়াশোনার পরিবেশ
পড়াশোনার পরিবেশও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আশপাশে যদি টিভির শব্দ, মোবাইলের নোটিফিকেশন বা বাড়ির কোলাহল থাকে, তাহলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।
তাই শান্ত, পরিষ্কার ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পড়ার সময় অযথা বাধা না দিয়ে শিশুকে নিজে বোঝার সুযোগ দিলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
বই-খাতায় সীমাবদ্ধ না রাখা
পড়াশোনাকে শুধু বই-খাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আনন্দদায়ক করে তুললে শিশুর আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। গল্পের মাধ্যমে বোঝানো, ছবি, চার্ট, রঙিন বই বা ফ্ল্যাশ কার্ড ব্যবহার করলে শেখা সহজ হয়। ছোটদের ক্ষেত্রে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানো বিশেষ কার্যকর।
এতে তারা আনন্দের মধ্যেই অনেক কিছু শিখে ফেলে এবং পড়াশোনাকে আর ভয় পায় না।
বকাঝকা না করা
অনেক সময় শিশু চেষ্টা করলেও ফল প্রত্যাশামতো হয় না। এই অবস্থায় বকাঝকা বা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়। বরং তার চেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করলে সে উৎসাহ পায় এবং আরো ভালো করার ইচ্ছা তৈরি হয়। ইতিবাচক উৎসাহ শেখার পথে বড় শক্তি।
স্ক্রিনটাইম কমানো
বর্তমানে মনোযোগ কমে যাওয়ার বড় কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভি দেখলে মন অস্থির হয়ে যায় এবং বই পড়ার ধৈর্য কমে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করতে শেখানো দরকার। বিকল্প হিসেবে বই পড়া, আঁকাআঁকি বা সৃজনশীল কাজে যুক্ত করলে ধীরে ধীরে বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ধৈর্য ও ভালোবাসা। প্রতিটি শিশুর শেখার গতি আলাদা। জোর করে পড়াতে গেলে বিরক্তি জন্মায়। কিন্তু সহানুভূতি ও বোঝাপড়া নিয়ে এগোলে শিশুরা নিজেরাই পড়ার আনন্দ খুঁজে পায়। অভিভাবকদের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন