৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীনে মিয়ানমারের মিং পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন মিয়ানমারে বেশ কয়েকটি স্ক্যাম কেন্দ্র পরিচালনা করা এক কুখ্যাত পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম।দেশটির ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত গত সেপ্টেম্বরে মিং পরিবারের এই সদস্যদের হত্যা, অবৈধ আটক, প্রতারণা, জুয়ার আড্ডা পরিচালনার জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। নভেম্বরে তাদের আপিল আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সর্বোচ্চ আদালত।সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চীনের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের শান্ত, নিরিবিলি শহর লাউক্কাই পরিচালনা করা বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর একটি হল মিং পরিবার।তাদের অধীনে দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন এই শহরটি অনলাইন স্ক্যাম, মানব পাচার, মাদক কারবারের মাধ্যমে ক্যাসিনো এবং রেড-লাইট এলাকাগুলোর এক ঝলমলে কেন্দ্রে পরিণত হয়।
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে চীন বংশোদ্ভূত কোকাং জনগোষ্ঠীর এই শহরটি ২০২৩ সালে বিদ্রোহীদের একটি জোটের অধীনে চলে যায়। এই জোটের অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। তারা মিং পরিবারের ১১ জনকে আটক করে চীনের হাতে তুলে দেয়।
মিয়ানমারের এই স্ক্যাম সাম্রাজ্যে কয়েক বছরের মধ্যে কয়েক হাজার চীনা কর্মী প্রতারণার শিকার হয়ে আটকা পড়েছিল। তারা মানব পাচারের মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসা কয়েক লাখ মানুষের একটি অংশ মাত্র। তাদের জোর করে অন্য দেশের মানুষদের অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে ফেলার কাজে ব্যবহার করা হতো।গত বছর, চীনের ইন্টারনেট জগত স্বল্প মেয়াদি এক চীনা অভিনেতার জন্য ভাইরাল অনুসন্ধান প্রত্যক্ষ করে।এই অভিনেতা একটি চুক্তিভিত্তিক কাজ করতে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার বদলে তাকে মিয়ানমারের এক স্ক্যাম কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।এসব ঘটনায় বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা অনেকদিন ধরেই মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে এসব স্ক্যাম মাফিয়াদের লাগাম টেনে ধরার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।অবশেষে স্থানীয় জাতিগত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সঙ্গে জান্তা বাহিনীর তুমুল লড়াইয়ের পর লাউক্কাই এর সঙ্গে এর মাফিয়াদেরও পতন ঘটে।
চীনের সর্বোচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মিং মাফিয়ারা স্ক্যাম অভিযান ও জুয়ার আড্ডা পরিচালনা করে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছিল। তাদের বিভিন্ন অপরাধের বলি হয় ১৪ জন চীনা নাগরিক আর আহত হন আরো অনেকে।সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন