স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং এই ইস্যুতে পাকিস্তানের ‘সংহতি’ প্রকাশের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক অফ-স্পিনার হরভজন সিং। তার মতে, পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে ‘দুই বনাম এক’ (ভারত বনাম বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) লড়াই হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা আদতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যই বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, বাংলাদেশের সমর্থনে তারা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। এই প্রসঙ্গে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরভজন বলেন, “পাকিস্তান ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।তারা এটাকে ‘টু ভার্সেস ওয়ান’ গেম বানাতে চাইছে। তাদের সব ম্যাচ তো শ্রীলঙ্কাতেই ছিল, তাহলে এখানে নাক গলানোর কী দরকার? শেষ পর্যন্ত কিন্তু বাংলাদেশের দল এবং খেলোয়াড়রাই হারল। একটি বিশ্বকাপ মিস করা খেলোয়াড়দের জন্য বিশাল বড় ক্ষতি।”হরভজন মনে করেন, বিসিবি আলোচনার পথ খোলা না রেখে শুরুতেই অনড় অবস্থান নিয়ে ভুল করেছে।
তিনি বলেন, “বিসিবির উচিত ছিল সরাসরি ‘না’ বলে দেওয়ার আগে আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা। তারা সম্ভবত সমাধানের চেয়ে ইগো বা অহমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।’ একইসঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিকেও তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দেন।ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হরভজন ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বকাপটি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কম থাকত।
কিন্তু ভারতের স্পিন-সহায়ক পিচে বাংলাদেশ ভালো করতে পারত। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশি স্পিনারদের যে মান, তাতে তারা সহজেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারত এবং সুপার এইটে বড় অঘটন ঘটাতে পারত। এই সুযোগ হারানোয় অন্য কারো ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয়েছে শুধু বাংলাদেশের।’
বাংলাদেশ মূলত ভারতে খেলার ক্ষেত্রে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র কথা উল্লেখ করে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। এমনকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভেন্যু অদলবদল করারও প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি।তবে আইসিসির বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এই দাবি নাকচ করে দেয়।পরবর্তীতে বিসিবি বিষয়টি নিয়ে আইসিসির ডিসপিউট রেজিলিউশন কমিটির (বিবাদ মীমাংসা কমিটি) দ্বারস্থ হলেও সেখানে তারা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে বিশ্বকাপ থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে রাখা হয়েছিল গ্রুপ ‘সি’-তে। কলকাতা ও মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল টাইগারদের। এখন সেই জায়গাটি দখল করেছে স্কটল্যান্ড। যারা যোগ্যতা অর্জন পর্বে বাদ পড়া দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় এই সুযোগ পেল।





