নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে শেষ ঘোষল করানো হচ্ছিল। গোসল হচ্ছিল র্যাব কার্যালয়ে সামনের মাঠে শামিয়ানা ঘেরা জায়গাটায়। এ সময় বাবার লাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিল মোতালেবের ছোট মেয়ে ইসরাত। একজন এসে তাকে ধরে দাঁড়ালেন। ইসরাত জাহানের কান্নার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল একটি শব্দ ‘আব্বু’ ‘আব্বু’। মঙ্গলবার পতেঙ্গায় র্যাব ৭-এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার শেষ গোসলের সময় এভাবেই কান্না করছিল ইসরাত জাহান। ইসরাত বলেন, আমার আব্বুর কী হয়েছে? আমার আব্বু কথা বলছে না। আব্বু কি আর আসবে না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাতের কান্না হৃদয় ছুঁয়ে যায় সবার।
এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ডিএডি মোতালেবের লাশ পতেঙ্গা র্যাব ৭-এর কার্যালয়ে আনা হয়। তার আগে থেকেই মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মেহেদী হাসান, বড় মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে ইসরাত জাহানসহ কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা সদরের অলিপুরের বাড়ি থেকে এসে পৌঁছেছিলেন। সেখানে জানাজার পর মোতালেবের লাশ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিজিবি সেক্টরে চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল র্যাব-৭ এ যোগ দেন। ৩০ বছর ৬ মাস ১২ দিন চাকরি করেন তিনি।
এদিকে বাবা হত্যার বিচার চায় মোতালেবের বড় মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী শামিমা জান্নাত। এভাবে আমার বাবাকে কেউ মেরে ফেলবে কেন। বাবা তো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিল। কেন তাকে মরতে হলো।
মোতালেবের বড় ছেলে তেজগাঁও সরকারি কলেজের স্নাতকের ছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, বাবার সঙ্গে আমার খুব মধুর সম্পর্ক ছিল। সবসময় মা ও বোনদের দেখে রাখার জন্য বলতেন। ভালোভাবে যাতে পড়াশোনা করি পরামর্শ দিতেন। বাবাকে হারিয়ে এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের কী হবে, জানি না। আমার বাবা হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই। আমার বাবাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা মাফ করে দেবেন।
গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আকস্মিক এমন খবর শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না মোতালেবের স্বজনেরা। খবরটা পাওয়ার পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে যান তাঁরা। মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কী করব? আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হয়েছে? এভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। আর কিছু বলতে পারলেন না তিনি।





