অনলাইন ডেস্ক: জামায়াত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জোন সহকারী, সাবেক এমপি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের অন্যতম শীর্ষ নেতা লতিফুর রহমান যারা আওয়ামী লীগ করেন তাদের জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমদের দলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, আপনাদের দায়-দায়িত্ব আমারা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানার যেকোনো দায়-দায়িত্ব আমরা নেব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
লতিফুর রহমান বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনারা বিএনপি থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। জামায়াতে ইসলামীকে আইগলা (আগের) জামায়াত মনে করিয়েন না। এখন শক্তিশালী জামায়াত।
নবাবগঞ্জের সকল সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে। যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন তারা নির্দ্বিদায় এখানে থাকবেন। আপনাদের আইন-আদালত, কোর্ট-কাচারির দায়িত্ব আমরা নেব। আমরা বিএনপিকে দাওয়াত দিচ্ছি। হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দিচ্ছি।’
এ সময় একজনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগে ছিলেন। এখন জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। অপরাধ করেছেন? বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে গেছেন। আমি নিজেও আওয়ামী পরিবারের ছেলে। একাত্তরের শহিদ পরিবারের ছেলে। আমি দেশ স্বাধীনের জন্য ৬৯ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি। আমি ১৯৭৬ সালে মুসলমান হইছি। আজকে যারা আওয়ামী লীগ করত জামায়াতে আসছে, তাদের বাড়ি পুলিশ পাঠাচ্ছে। আমি এখান থেকে বলে দিলাম ডিবি পুলিশকে, এভাবে ডিস্টার্ব করবেন না।’
আপনারা এত বেহুশ হয়ে কথা বলছেন কেন? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের রগকাটা পার্টি বলছেন কেন? আমাদেরকে রাজাকার বলছেন। মানুষের যখন বলার কোনো কথা না থাকে তখন আবোল-তাবোল কথা বলে। এগুলো বলবেন না। জনগণ এগুলো খাবে না। নতুন কথা নিয়ে আসেন। আগামীতে কি করবেন সে বক্তব্য নিয়ে আসেন। আগামী দিনে বাংলাদেশে একটা পরিবর্তন হচ্ছে। আমারা চেয়েছিলাম আলেমদের ঐক্য হতে হবে। আলেম-ইসলামের নামে যত দল আছে, ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এরপর বিএনপির দুজন মন্ত্রী জামায়াতের সাথে এক হলো। তাদের বলেন, কেন তারা জামায়াতে এলেন।’
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আমাদের ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে। এই অপরাধে আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, মেরে ফেলা হয়েছে, গুম হয়েছেন আমাদের ভাইরা।’





