২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ

খবর বিজ্ঞপ্তি: ইংরেজি নতুন বছর বরণের নামে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ—এমন দাবি জানিয়ে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সোমবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, জামাল খান চত্বরে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফটকা না ফোটানোর আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবী তারকাশ্বের দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ, চট্টগ্রাম উক্ত সভার আয়োজন করেন।পথসভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক বিজয় শংকর চৌধুরী, এডভোকেট আ.হ.ম রাসেল, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম.নুরুল হুদা চৌধুরী, টিভি ও বেতার শিল্পী অচিন্ত কুমার দাশ, নিলয় দে, আজগর হোসেন তালুকদার. মোঃ আহমদ হোসেন। বক্তারা বলেন, ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের নামে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর কারণে আমাদের দেশে প্রতিবছর শত শত পাখির মৃত্যু ঘটে এবং হৃদরোগে ভুগতে থাকা শিশু ও বয়স্কদের জীবনের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মানবতাবিরোধী। এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়; পাখি, প্রাণ-প্রকৃতিরও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্মরণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত, দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, মাথা ঘোরা, মানসিক অস্থিরতা, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকসহ নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সভায় উল্লেখ করা হয়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ৭ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করে অননুমোদিতভাবে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটালে তা বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ আইনের ব্যত্যয় ঘটলে প্রথম অপরাধের জন্য অনধিক এক মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রদান করা হতে পারে।পথসভা থেকে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আইন মেনে পরিবেশবান্ধব ও মানবিক উপায়ে নতুন বছর উদযাপনের জোরালো আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীকে।

আরও পড়ুন