১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আশা ভোঁসলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন সাবিনা ইয়াসমিন

বিনোদন ডেস্ক : উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে যেন থমকে গেছে এক স্বর্ণালি অধ্যায়। ৯২ বছর বয়সে তাঁর এই বিদায়কে সংগীতপ্রেমীরা দেখছেন একটি যুগের অবসান হিসেবে। এই শোকের মুহূর্তে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, যিনি তার স্মৃতিচারণে তুলে ধরেছেন এই শিল্পীর মানবিক রূপ।নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে নেই ভাবতেই পারছি না। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে চিনতাম। তবে সমানাসামনি তাঁকে দু’বার দেখার সুযোগ হয়েছিল, যা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে। কলকাতায় ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলাম।সেখানে আমার গান শুনে তিনি এত প্রশংসা করেছিলেন যে আমি লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলাম। স্টুডিওতে উপস্থিত থাকা বরেণ্য সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বলেছিলেন, ‘সাবিনা ইয়াসমিন খুব ভালো গেয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘ওই কাজটিতে কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান এবং একটি একক গান গেয়েছিলাম। হিন্দি ও বাংলা—দুই ভাষাতেই কাজ করেছি।আশা ভোঁসলের মতো এত ভালো মানুষ আমি কম দেখেছি। এত বড় শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। তাঁর সান্নিধ্যে না এলে তা বোঝা সম্ভব নয়।’ঢাকায় আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘একবার তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তাঁর গান শুনতে গিয়েছিলাম। সামনে বসে মনোযোগ দিয়ে গান শুনেছি। পরে পেছনের মঞ্চে গিয়ে দেখা হলে তিনি বললেন—তোমাদের গান খুব শোনার সুযোগ পাই না, তবে কিছু গান শুনেছি, খুব ভালো লেগেছে। তোমার কিছু গান শ্রোতার মুখেও ফিরে। তিনি প্রশংসা করেই যাচ্ছিলেন। আমি মনে করি, এত প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই।’
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন আশা ভোঁসলে। বিভিন্ন ভাষায় গাওয়া তাঁর অগণিত গান আজও সমান জনপ্রিয়। তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি।এমন একজন গুণী শিল্পীর প্রয়াণে সংগীতজগতে তৈরি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা। প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষ কথায় সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেখানেই থাকুন, খুব ভালো থাকুন।’
উল্লেখ্য, রবিবার (দুপুর ১২টা) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আগের দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন