৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ : বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, শিগগিরই বাড়বে খাদ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর Strait of Hormuz বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব খুব শিগগিরই সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলেও অনুভূত হবে।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০% এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে Iran-কে ঘিরে সংঘাত এবং প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।এই সংকট শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি সরাসরি আঘাত করছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৃষিখাতকে।
সার সংকটে কৃষি উৎপাদন হুমকিতে
বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়—
>>নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে
>>সারের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে
>>কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে
বিশেষ করে নাইট্রোজেন সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা থাকায় জ্বালানি সংকট সরাসরি সারের দামে প্রভাব ফেলছে।
কৃষকদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত
সার সংকটের কারণে কৃষকদের সামনে তিনটি পথ—
>>কম সার ব্যবহার করা
>>কম জমিতে চাষ করা
>>বিকল্প কম সার-নির্ভর ফসল বেছে নেওয়া
এই তিন ক্ষেত্রেই উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভুট্টা, গম ও চালের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের সরবরাহ কমতে পারে।
খাবারের দাম কেন বাড়বে?
ফসল উৎপাদন কমে গেলে এর প্রভাব পড়ে পুরো খাদ্যচক্রে—
>>ভুট্টার দাম বাড়লে পশুখাদ্যের খরচ বাড়ে
>>গরু, মুরগি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়
>>প্রক্রিয়াজাত খাবারের (যেমন কর্ন সিরাপভিত্তিক পণ্য) দামও বাড়ে
ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য খরচ বেড়ে যায়।
প্রভাব পড়বে ধাপে ধাপে
বিশেষজ্ঞদের মতে—
>>পাইকারি বাজারে প্রভাব দ্রুত পড়বে
>>খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২–৪ মাস
>>মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব আরও দেরিতে দেখা যাবে
এছাড়া পরিবহন, প্যাকেজিং ও জ্বালানি খরচ বাড়ায় খাদ্যের দাম আরও বাড়বে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা?
নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে, কারণ—
>>তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় হয়
>>সস্তা প্রোটিন (যেমন মুরগি) কিনতেও কষ্ট হবে
World Food Programme ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, বিশ্বে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল সাময়িক নয়—
>>India ও Brazil-এর মতো বড় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
>>আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা আরও খারাপ হবে
>>বিশ্ববাজারে খাদ্যের মূল্য দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে
সব মিলিয়ে, Strait of Hormuz বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বহন করতে হবে বিশ্ববাসীকে।

আরও পড়ুন