আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালিতে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর গত বৃহস্পতিবার জাপান ও ফ্রান্সের মালিকানাধীন জাহাজসহ মোট চারটি জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি–তেলের সংকট ও দামবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই জাহাজ চলাচলকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে ইরান তাদের জলসীমায় লারাক দ্বীপের কাছে একটি বিশেষ রুট খুলে দেয়। শিপিং জার্নাল লয়েড’স লিস্ট এ রুটটিকে ‘তেহরান টোল বুথ’ বলে অভিহিত করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এই অনুমোদিত পথ ব্যবহার করেই চারটি জাহাজ প্রণালি পার হয়।
মেরিন ট্রাফিক ডেটা অনুযায়ী, ওই দিন হরমুজ প্রণালি পার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল— অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বড় ট্যাঙ্কার হাবরুত ও ধলকুত, সোহার এলএনজি ট্যাঙ্কার ও ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানির একটি ফরাসি কনটেইনার শিপ—যা গত ১ মার্চের পর প্রথমএদিকে যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি ও সমুদ্রসীমা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তারা ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি ‘শান্তিকালীন প্রোটোকল’ তৈরি করছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা স্পুটনিককে বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই প্রোটোকল কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের মৌলিক নিয়ম ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গিয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল শুরুর ফলে বাজার কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি।





