১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হলেন মিরসরাইয়ের মাহফুজুর রহমান

মিরসরাই প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সন্তান এসএএম মাহফুজুর রহমান। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে। অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এসএএম মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিনও তাকে অভিনন্দন জানান।
১৯৬৫ সালের ১ মার্চ মিরসরাই উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজুর রহমান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি মিঠাছড়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
পেশাজীবন শুরু করেন বার্তা সংস্থা ইউএনবি-তে শিক্ষানবীশ সহ-সম্পাদক হিসেবে। পরে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান-এ দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম-এ কাজ করে ডিজিটাল সাংবাদিকতায় অবদান রাখেন।
২০১৭ সালের ১ মার্চ তিনি ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে সংস্থাটি পেশাদারিত্ব ও গতিশীলতায় নতুন মাত্রা পায়। এছাড়া তিনি সময় টেলিভিশন-এর ওয়েব বিভাগের সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পান।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাঞ্জল ভাষাশৈলীর জন্য মাহফুজুর রহমান পরিচিত। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর এ নিয়োগকে অনেকেই পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়া তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

আরও পড়ুন