২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫০ হাজার পুলিশ থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলবো’

‘নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে আজিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের অডিওতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অশ্লীল গালাগালসহ আজিজ উদ্দিনকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, কয় দিন ঘরে বসে থাকবি? প্রশাসন কয় দিন পাহারা দেবে? তোকে গুলি করে পুরো শরীর বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব। একটা খুন করলে যে সাজা, দশটা খুন করলেও সেই সাজা।
আজিজ উদ্দিন, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত বছরের ৫ নভেম্বর গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলার ছোট ভাই। ওইদিন বিএনপির এক প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন সরোয়ার। ভুক্তভোগী আজিজ উদ্দিনের অভিযোগ, হুমকিদাতা চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন।তিনি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
ওই অডিওতে বলা হয়, ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলবো। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।আজিজ উদ্দিন জানান, গত রোববার বিদেশি নম্বর থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে এই অডিও পাঠানো হয়।
এরপর বিষয়টি তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। তিনি আরও জানান, আমার ভাইকে গুলি করে হত্যার পর থেকেই সন্ত্রাসীরা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ হুমকির পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
হুমকির বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহিদুল কবির জানান, সন্ত্রাসী মোবারককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান। তিনি বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে হুমকিসহ নানা অপরাধ করে আসছেন।
পুলিশ জানায়, মোবারক ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে। নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি তিনি। অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ মোবারকের ১৫-২০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে চট্টগ্রামে খুন, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতার হলেও তাঁর বাহিনীর তৎপরতা থামেনি। বর্তমানে বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন মোবারক ও মোহাম্মদ রায়হান। তবে এখনো তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন