অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেটসহ ৫ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তাররা হলেন ত্রিশাল উপজেলার সতের পাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৭), ধরিলা মধ্য পাড়ার হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪) ও ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫)। ছলিমপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) ও পৌরসভা এলাকার আ. মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১) ।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।গ্রেপ্তার পাঁচজনকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহত ৪ জন যুবক কামাল ও হারুন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পড়িয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সারওয়ার ও আশরাফুল ইসলামের নাম বললে তাদের ময়মনসিংহ চরপড়া এলাকা থেকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাঁচটি ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্র, দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দশটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ, ৭ টি মোবাইল ফোন, একটি ডেক্সটপ, একটি মনিটর ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ আগে রঘুনাথপুর গ্রামে এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে তারা চলে যায়। গতকাল রাতে এ চক্রের সদস্যরা রঘুনাথপুর গ্রামে একই কায়দায় কামাল ও হারুন নামের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন।তারা সকলে আন্ত জেলা প্রতারকচক্রের সদস্য। ডিবি পুলিশের পোশাক পরিধান করে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতারণা করে আসছে। তাদের কাছ থেকে হাতকড়া, ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজপত্রসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।





