২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানা থেকে ২ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় একটি জাহাজভাঙা কারখানা সংলগ্ন সাগর উপকূল থেকে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের লাশ তিন খণ্ডে ক্ষতবিক্ষত এবং আরেকজনের লাশ অক্ষত পাওয়া গেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উপজেলার কুমিরা এলাকায় ‘কেআর গ্রিন শিপইয়ার্ড’ নামে একটি কারখানা সংলগ্ন উপকূল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাকাতদলের হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন। তবে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের দাবি, কারখানায় নতুন জাহাজ তোলার সময় (বিচিং) দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে।নিহতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম (২৫) ও আবদুল খালেক (২৭)। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।
শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, উভয়ে কুমিরা এলাকার ‘কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড’ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তাদের লাশ পাওয়া গেছে ওই কারখানা থেকে আনুমানিক ৩৫০ মিটার দূরে একই মালিকের ‘কেআর গ্রিন শিপইয়ার্ড’ নামে আরেকটি জাহাজভাঙা কারখানা সংলগ্ন সাগর উপকূলে।এদের মধ্যে সাইফুলের লাশটি হাত, পা ও মাথা আলাদা খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে আমরা গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করেছি। কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে- রাতে ওই শ্রমিকেরা একটি নৌকা (লাল বোট) নিয়ে কারখানার আশপাশে সাগর উপকূলে পাহারা দিচ্ছিলেন, এসময় ডাকাতদলের হামলায় তারা নিহত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ওই নৌকায় আরও দুই শ্রমিক ছিলেন। তারা আমাদের জানিয়েছেন, ডাকাতদল আক্রমণ করার পর তারা দুজন প্রথমে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে খালেক ঝাঁপ দেয়। সাইফুল ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ডাকাতরা তাকে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। খালেকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আমরা দেখিনি। আমাদের ধারণা, ভয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
শিল্প পুলিশের এসপি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘কারখানার মালিকপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে দুটি নৌকায় করে একদল ডাকাত তাদের শিপইয়ার্ডের দিকে এগিয়ে আসছিল। সাইফুল ও খালেকসহ কয়েকজন শ্রমিক শিপইয়ার্ড থেকে দুটি নৌকা নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে যায়। সেখানে ডাকাতরা দুজনকে হত্যা করেছে। মালিকপক্ষের এই বক্তব্য সত্য কী না সেটা আমরা যাচাইবাছাই করে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যে শিপইয়ার্ডে ঘটনা ঘটেছে, লাশ পাওয়া গেছে তার থেকে ৩৫০ মিটার দূরে একই মালিকের আরেকটি শিপইয়ার্ডের পাশে। একটি লাশ তিন খণ্ড অবস্থায় পাওয়া গেছে। আরেকটি অবশ্য অক্ষত পাওয়া গেছে। সার্বিকভাবে আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য উল্লেখ করে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কেআর রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে শিপইয়ার্ডে নতুন জাহাজ তোলার (বিচিং) সময় সিগন্যাল দেওয়া একটি নৌকার সঙ্গে জাহাজটির সংঘর্ষ হয়। এতে নৌকাটি জাহাজের নিচে তলিয়ে যায়। এতে দুজন শ্রমিকের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলে তারা মারা যায়।
ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন যুক্ত বিবৃতিতে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার জন্য তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘রাতের বেলা ঘন কুয়াশায় জাহাজ বিচিং করার কারণে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে প্রচার করে মূল বিষয়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করার শুরু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এভাবে মূল বিষয় এড়িয়ে গেলে জাহাজভাঙা শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভব হবে না। সুতরাং দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করে যথাযথ উদ্যোগ নিলে টেকসই ও নিরাপদ জাহাজভাঙা শিল্প নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন