৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সীতাকুণ্ডের ইকোপার্কে উদ্ধার শিশুর মৃত্যু, হয়েছিল ধর্ষণের শিকার

অনলাইন ডেস্ক: সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতর থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছরের সেই মেয়ে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তারর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ভুক্তভোগী।এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) রাতে শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।সোমবার (২ মার্চ) তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে পুনরায় নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন তালুকদার।
নিহত শিশুর চাচা আজিজ বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।সে ইশারায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিল। কিন্তু রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে তার অস্বস্তি শুরু হয়। সে পানি ও খাবার চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় তাকে কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে।
শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে আঘাতের মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উরুর অংশে কাটাছেঁড়ার চিহ্ন ছিল।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং একটি নামও নির্দেশ করেছিল, তবে তা পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা তাকে প্রথম দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় গত ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

এমআই/এমজে/টিসি

আরও পড়ুন