১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একাদশ ও দ্বাদশ সংসদের উপনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে ৷বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার এ শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ৷শোক প্রস্তাবে বলা হয়, এ সংসদ প্রস্তাব করছে যে, মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।”এ শোকপ্রস্তাবের একটি অনুলিপি মতিয়া চৌধুরীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে।
শোক প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদের উপনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মাধ্যমে। ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে ষাটের দশকে আইয়ুব বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এরপর পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। তিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার এবং আহতদের সেবায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।মতিয়া চৌধুরী ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৪৪ শেরপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
২০১৩ সালে পুনঃ বন্টনকৃত মন্ত্রি পরিষদে তিনি কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ‘সংসদ উপনেতা’ মনোনীত হন।

আরও পড়ুন