অনলাইন ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শোক বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।’নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাগত জানাতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।তিনি ভারতের পক্ষে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক প্রকাশ করেন।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ দৃশ্যত পরিস্থিতিকে বদলে দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বার্তা দেন।
একই সঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকে ঢাকায় পাঠান। চার ঘণ্টার সফরে ঢাকায় এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মোদির চিঠি হস্তান্তর করেন। ওই সাক্ষাৎ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ এক্সে লিখেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর চার ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ঢাকা ছাড়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থ, বাস্তবভিত্তিক এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় রচনার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। এই বিষয়টি গত বুধবার বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনায়ও উঠে আসে।
হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও গত বুধবার নয়াদিল্লি ফিরে যান এবং গতকাল হাইকমিশনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একই সঙ্গে তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন কমবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন।
তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারপর চলে গেছেন। এটা একটা ভালো ‘জেসচার’, এ পর্যন্তই; এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভালো। এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখাই ভালো।”
জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মধ্যে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কোনো কথাবার্তা হয়নি। সে রকম সুযোগও ছিল না। অন্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন, পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তাঁর সঙ্গেও তিনি (জয়শঙ্কর) হাত মিলিয়েছেন। এটা ‘কার্টেসি’, যেটা সবাই মেনে চলে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাঁর (জয়শঙ্কর) সঙ্গে আমার যেটুকু কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যবোধ, অন্য সবার সামনে, ফলে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখবে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ইতিবাচক। এতে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কি না, সময়ই বলবে।’
খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোতেও খালেদা জিয়ার এক ধরনের যথেষ্ট ‘পজিটিভ ইমেজ’ আছে। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আপনারা তা জানেন। দেশের মানুষের মধ্যে দল-মত-নির্বিশেষে তাঁর এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা-সম্মান আছে।”





