অনলাইন ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন।
নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী-এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজির সংকট মোকাবিলা।তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা, তারল্য সংকট দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত শাসনামলে দলীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল তরুণদের নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা শুনবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও নারীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যেহেতু এই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের হাত ধরে, তাই বিএনপি সরকার চাইবে সার্ক আবার সক্রিয় ও কার্যকর হোক।তিনি আরও বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির ভাবনা কী হবে- বিদেশি এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ও লাভজনক হয়, তবেই সরকার এ উদ্যোগে ইতিবাচকভাবে এগোবে।বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা কী থাকবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
দুই শতাধিক আসন পেতে নির্বাচনে বিএনপির কি কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। তবে সেটা হচ্ছে জনগণকে কনভিন্স করা। জনগণকে কনভিন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আর এই ইঞ্জিনিয়ারিং করতে আমরা সফল হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেল ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।





