অনলাইন ডেস্ক: বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হঠাৎ মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের বোন। ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে করতে নিজের জমানো মাটির ব্যাংক আর কয়েকটা মুরগির ডিম তুলে দিলেন ফখরুলের হাতে। বললেন, ‘আমার ভাইটা বিএনপিকে ভালোবাসত, নির্বাচনের জন্য এই সামান্য দানটুকু গ্রহণ করেন।’
এমন দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারলেন না ৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক; জনসভার মঞ্চেই আবেগ আপ্লুত পড়লেন তিনি। রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এই আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।নিজের দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি নতুন লোক না, বয়স হয়েছে ৭৮ বছর। যখন প্রথম আসি, তখন কি চুল পাকা ছিল? তখন যুবক ছিলাম।৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি। একটা লোক বলতে পারবেন মির্জা আলমগীর একটা কাজ করে পাঁচটা টাকা খেয়েছে? বলতে পারবেন না। উল্টো বাবার জমি-ব্যবসা বিক্রি করে রাজনীতি করছি। সততা আমাদের রক্তে আছে বলে আমরা বুক টান করে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
তিনি আরো বলেন, এটাই বোধহয় আমার শেষ নির্বাচন। যে বয়স হয়েছে, আর নির্বাচন আমি করতে পারব না। আপনাদের কাছে কি ধানের শীষে একটা ভোট আশা করতে পারি না?পথসভায় কৃষকদের আশ্বস্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। এ সময় মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কিস্তিতে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আপনারা অনেক কষ্ট করেন। সময়মতো দিতে না পারলে মুরগি কেড়ে নেয়।তারেক রহমান সাহেব বলেছেন— ‘আমি মায়েদের আর কষ্ট করতে দেব না। এনজিওর যত সুদের টাকা আছে ওটা আমি নিয়ে নেব, আমি পে করব।’অন্যান্য দলের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোরআন শিক্ষার নাম করে কেউ কেউ বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে। এটা হতে পারে না। কোনো মার্কা ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না। বেহেশতে যেতে হলে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে হবে, সৎ হতে হবে।
নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এবার নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। দেশের মানুষ জেগে গেছে। আপনারা শুধু ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন যেন কেউ দুষ্টামি করতে না পারে।
বক্তব্যের শেষ দিকে শহীদ আল মামুনের বোনের দেওয়া উপহার হাতে নিয়ে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এই মেয়েটা তার মাটির ব্যাংকের জমানো টাকা নির্বাচনের জন্য দিয়ে দিল। আল্লাহ এই মেয়েটার আকুতি কবুল করেন। এরপর তিনি উপস্থিত জনতাকে নিয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ১২ তারিখ ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।




