২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাউজানে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাউজান প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মুজিবুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলি মিয়া হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মুজিবুর রহমান পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনজু পিতার বাড়ির মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী এবং রাউজানের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী–এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
জানা গেছে, মুজিবুর রহমান দুই সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং ছোট ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। পেশাগতভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু না করলেও এলাকায় তিনি বিয়ের ঘটকালি করতেন বলে জানা গেছে।নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, ‘ইফতারের সময় বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে শুনতে পাই, আমার স্বামীকে তিনটা গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে এসে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই।নিহতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ জানান, ‘ইফতারের আগে একটি চায়ের দোকানে তার সঙ্গে কিছু যুবকের ঝগড়া হয়েছিল বলে জেনেছি। ধারণা করছি, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের পর অলি মিয়া হাটের একটি চা দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুজিবুর। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে সড়কের দিকে এগোতেই আশপাশ থেকে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তার কপাল, বুক ও পেটে একাধিক গুলি লাগে।গুলির শব্দে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে মোট তিনটি গুলি লেগেছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার দিকে নিহতের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা এসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।তিনি আরও জানান, ঘটনাটিকে আপাতত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে না পুলিশ। কারা, কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও বালুমহল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি স্থানীয়দের।ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও পড়ুন