অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমারের নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে সেনা-সমর্থিত দলগুলো। সরকারি ফল অনুযায়ী, জান্তা সরকারের মদদপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষের ঘোষিত আসনের ৯০ শতাংশই জিতেছে। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। একদিকে গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী শক্তি, অন্যদিকে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে চলছে সংঘর্ষ।গত সপ্তাহে ধাপে ধাপে এক মাসব্যাপী এই নির্বাচন শুরু করে জান্তা। নেতারা দাবি করেছেন, এই ভোট গণতন্ত্রের পথ খুলে দেবে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা একে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি সামরিক শাসনের নতুন রূপমাত্র।
ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনের (ইউইসি) আংশিক ফল অনুযায়ী, ঘোষিত ৯৬টি নিম্নকক্ষ আসনের মধ্যে ইউএসডিপি জিতেছে ৮৭টি। শনিবার ও রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই ফল প্রকাশ করা হয়। সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ছয়টি দল পেয়েছে নয়টি আসন।
প্রথম ধাপের ভোটে আরও ছয়টি টাউনশিপের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি।আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি আরো দুটি ধাপে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপি মূলত সেনাবাহিনীর বেসামরিক মুখ। দলটি গত সপ্তাহেই প্রথম ধাপে বড় জয়ের দাবি করেছিল।গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভোটে অংশ নিতে পারেনি। জনপ্রিয় এই দলটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।অভ্যুত্থানের পর থেকেই সু চি কারাগারে আছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডি নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সেই ফল বাতিল করে দেয় সেনাবাহিনী। এরপর সেনাবাহিনী ও ইউএসডিপি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না।
ইউইসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঘোষিত ১৫টি আঞ্চলিক ও রাজ্য আসনের মধ্যে ইউএসডিপি জিতেছে ১৪টি। রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।জান্তার দাবি, প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল যোগ্য ভোটারের ৫০ শতাংশের বেশি। তবে ২০২০ সালের সর্বশেষ ভোটে উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।





