অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দুই প্রধান প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে সম্পদ ও ঋণের বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকের নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা ঋণ নেই। আর অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নামে রয়েছে বিপুল সম্পদের পাশাপাশি হাজার কোটি টাকার ঋণ ও বহু মামলা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি, কৃষিজমি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতাও নন। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৯০ হাজার টাকা এবং বিবাহসূত্রে পাওয়া ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী আনোয়ার ছিদ্দিকের স্থায়ী আমানত রয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তার মোট জমা অর্থ ১৬ লাখ টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাবপত্রের মোট মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭৪ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১১ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭০ টাকা। তিনি ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২৯টি ফৌজদারি মামলা হয়। এরমধ্যে ১৯টি মামলার থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। বাকি ১০ মামলা বিচারাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর হলফনামায় বিপুল সম্পদের পাশাপাশি বড় অঙ্কের ঋণের তথ্য উঠে এসেছে। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা হলেও তার মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী মিউচ্যুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক, স্ট্যাণ্ডার্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংকের মোট পাঁচটি ব্যাংকে হিসাবে তার নিজ নামে ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জামিনদার ও পরিচালক হিসেবে তিনি আরও ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার ঋণে দায়বদ্ধ। তবে এসব ঋণের বেশিরভাগই তিনি জামিনদার ও ডিরেক্টর হিসেবে জড়িত বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
আসলাম চৌধুরীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১১ কোটি টাকা। তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, যার প্রধান উৎস ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন আইনে মোট ১৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি মামলা বর্তমানে চলমান এবং ৫২টি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।





