২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বরফে মোড়া দ্বীপে জীবন কেমন, কারা থাকেন গ্রিনল্যান্ডে?

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া বক্তব্যে আবারও বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গ্রিনল্যান্ড। কৌশলগত নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল দ্বীপটি অধিগ্রহণের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তবে ডেনমার্ক এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্বও তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসীরই।
এই কূটনৈতিক উত্তাপের বাইরে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। বরফে ঢাকা বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপে আসলে কারা বসবাস করেন? কেমন তাদের দৈনন্দিন জীবন? গ্রিনল্যান্ড, যেখানে শহরকে শহরের সঙ্গে যুক্ত করে এমন কোনো সড়ক নেই, বরং আকাশ ও সমুদ্রই যোগাযোগের ভরসা।গ্রিনল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ থেকে ৫৭ হাজার। অথচ আয়তনে এটি পশ্চিম ইউরোপের চেয়েও বড়।বিশ্বের সবচেয়ে কম জনঘনত্বের অঞ্চলগুলোর একটি গ্রিনল্যান্ড, যেখানে দ্বীপটির প্রায় পুরো অভ্যন্তরভাগই বরফের বিশাল চাদরে ঢাকা, যা মানব বসতির জন্য একেবারেই অনুপযোগী।
গ্রিনল্যান্ড অবস্থিত আর্কটিক অঞ্চলে, যার উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, দক্ষিণে উত্তর আটলান্টিক, পশ্চিমে কানাডা এবং পূর্বে আইসল্যান্ড।দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বাস করেন বরফমুক্ত উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে। রাজধানী নুক-এ বাস করেন ১৮ হাজারের কিছু বেশি মানুষ।গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্রও এটি। নুকের বাইরে রয়েছে ছোট ছোট শহর ও বসতি, কোথাও কোথাও জনসংখ্যা মাত্র কয়েক ডজন!বসতির মধ্যে দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বহু এলাকায় সবাই সবাইকে চেনে।গ্রিনল্যান্ডের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুপানুক ওলসেন নিজের দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরেন ভিডিওতে।তার ভাষায়, “গ্রিনল্যান্ডে মানুষ এত কম যে আমাদের সাধারণত পরিচয়পত্র লাগে না।অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে কেউ আইডি চায় না। আর কখনো চাইলে আমি বরং বিরক্ত হই—ভাবি, ‘তুমি তো আমাকে চেনো!’”
তিনি জানান, পৌরসভা অফিস বা হাসপাতালেও আইডি দেখাতে হয় না। তবে এই পরিচিতির সংস্কৃতি কখনো কখনো ব্যাক্তিগত জীবনে সমস্যাও তৈরি করে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। কারণ, ‘সবাই জানে তোমার বয়স কত, তোমার বাবা-মা কে।’
কারা গ্রিনল্যান্ডের মানুষ?
গ্রিনল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ইনুইট, যাদের স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কালাল্লিত’। উত্তরে ইনুগুইট এবং পূর্বে ইইত নামে আঞ্চলিক গোষ্ঠীও রয়েছে। বহু গ্রিনল্যান্ডারের মধ্যেই ইনুইট ও ইউরোপীয় বংশের মিশ্রণ দেখা যায়, যা ডেনিশ বসতি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের দীর্ঘ ইতিহাসের ফল।
ডেনিশ নাগরিকরা মূলত প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৎস্য, পর্যটন ও সেবা খাতে শ্রমের চাহিদার কারণে ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের দৈনন্দিন জীবন প্রকৃতির চরমতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গ্রীষ্মে থাকে ‘মিডনাইট সান’, এসময় রাতেও সূর্য ডোবে না। শীতকালে দিনের আলো প্রায় থাকে না, বরং বরফ, চাঁদের আলো আর অরোরাই (মেরু অঞ্চলের বিশেষ আলো) ভরসা।
শহরগুলো ছোট। বেশির ভাগ জায়গায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে হাঁটা যায়। গাড়ি থাকলেও তা অপরিহার্য নয়। শহরের মধ্যে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। যাতায়াতের জন্য নির্ভর করতে হয় নৌকা, উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার এবং শীতে স্লেজ ও স্নোমোবাইলের ওপর।

আরও পড়ুন