৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ববিতা ও আইয়ুব বাচ্চু পাচ্ছেন একুশে পদক

বিনোদন ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছে সরকার। ঘোষিত তালিকায় মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড স্থান পেয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দেশবরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা ও কিংবদন্তি ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু পাচ্ছেন এ বছরের একুশে পদক।
বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, উপমহাদেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ববিতা ১৯৫৩ সালে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। যার পর্দার মোহময় উপস্থিতি আর অভিনয়ের নিপুণতায় মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। নায়িকা হিসেবে ববিতার প্রথম সিনেমা ‘শেষ পর্যন্ত’। তার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি।কিন্তু চলচ্চিত্রে আসার পর পরিচিতি পেয়েছেন ববিতা নামে।ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘অশনিসংকেত’, ‘অনঙ্গ বউ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাইলি-মজনু’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’, ‘দিপু নাম্বার টু’ উল্লেখযোগ্য।১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রী।এ ছাড়া ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।বাংলা ব্যান্ড সংগীতের তুমুল জনপ্রিয় গায়ক ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু একুশে পদক ২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। মৃত্যুর সাত বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মারা যান আইয়ুব বাচ্চু।জীবদ্দশায় টানা কয়েক দশক ধরে সংগীতাঙ্গনে প্রভাব রেখে গেছেন।
আজও তার গান মাতিয়ে রাখে দর্শককে। হৃদয়কে করে তোলে তোলপাড়। দীর্ঘ ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে ১২টি ব্যান্ড, ১৬টি একক ও বহু মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল তার। আইয়ুব বাচ্চুর অসাধারণ গানের কথার সঙ্গে শ্রুতিমধুর সুর, সংগীতায়োজন দর্শককে মুহূর্তের মধ্যেই মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত।
চট্টগ্রামের এই কৃতী সন্তান ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। গানকে ভালোবেসে সংগীতজীবন শুরু করেন ১৯৭৭ সালে। তার এক বছর পরেই ব্যান্ড জগতে পা রাখেন। ১৯৮০ সালে আইয়ুব বাচ্চু যোগ দেন সোলস ব্যান্ডে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯১ সালে তিনি ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড (এলআরবি)’ ব্যান্ডদল গঠন করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দলটির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তার প্রথম গাওয়া গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। আর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তবে গানের জগতে সফলতা পান তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’-এর মাধ্যমে।
অসংখ্য দর্শকপ্রিয় গানের মধ্যে তার কয়েকটি গান হলো ফেরারি মন, হাসতে দেখো, কষ্ট পেতে ভালোবাসি, চলো বদলে যাই, সুখেরই পৃথিবী ইত্যাদি। তার গানগুলোয় সুখ, দুঃখ বেদনা, প্রেম, ভালোবাসা ও কষ্টের সব অনুভূতিই আলাদা মাত্রা পেত।

আরও পড়ুন