আলেমা সামিয়া আফরিন : মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনের ব্যস্ততা, প্রবৃত্তির টান ও শয়তানের প্ররোচনায় প্রতিদিনই আমাদের দ্বারা ছোট কিংবা বড় নানা ত্রুটি ও গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা কখনো বন্ধ করেননি। তিনি এমন কিছু ইবাদত নির্ধারণ করেছেন, যা শুধু আনুগত্যের প্রকাশই নয়, বরং পাপমোচনের এক অবিরাম ব্যবস্থা।
দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ এবং বছর থেকে বছর; একজন মুমিন যেন নতুন করে পরিশুদ্ধ জীবনে ফিরে আসতে পারে, সেই করুণাময় ব্যবস্থার কথাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিচের হাদিসে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ভাষায় তুলে ধরেছেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ “ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ ” .
আবু হুরাইরাহ (রাز) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমা থেকে আর এক জুমা এবং এক রমজান থেকে আর এক রমজান, তার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারাহ হয়ে যাবে যদি কাবীরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)
এই হাদিসে ইসলামের রহমতপূর্ণ ভারসাম্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সাপ্তাহিক জুমা এবং বার্ষিক রমজান এই তিনটি ইবাদতকে আল্লাহ তাআলা বান্দার জীবনে ধারাবাহিক আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা হিসেবে রেখেছেন।একজন মুমিন যখন সচেতনভাবে নামাজ আদায় করে, জুমাকে গুরুত্ব দেয় এবং রমজানের হক আদায় করে, তখন তার জীবনের মাঝখানের ছোটখাটো গুনাহগুলো আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।
তবে হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও এসেছে— কাবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। অর্থাৎ বড় গুনাহকে হালকা করে দেখার সুযোগ এখানে নেই। বড় গুনাহের জন্য আলাদা তাওবা, অনুতাপ এবং সংশোধন জরুরি।
এই শর্ত আমাদের শেখায় যে, ইবাদত কখনো গুনাহকে বৈধ করার লাইসেন্স নয়; বরং ইবাদত মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখার শক্তি।
এই হাদিস আমাদের জন্য একদিকে গভীর আশার বার্তা, অন্যদিকে দায়িত্বের স্মরণ। আশা এই যে, আল্লাহ বান্দার ছোট ভুলগুলো ক্ষমা করতে প্রস্তুত। আর দায়িত্ব এই যে, আমরা যেন বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি এবং ইবাদতকে জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করি। এভাবেই একজন মুমিন ধীরে ধীরে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।লেখক : শিক্ষিকা, এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, নারায়ণগঞ্জ




