১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে সাবেক পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরে নিজের ঘুমন্ত ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর আরও দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল নাছির আহমদ (৫৫)। সবশেষে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজের জীবন শেষ করেছেন তিনি।সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।নিহত নাছির আহমদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা।দীর্ঘ সময় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত থাকার পর গত বছরের ১ আগস্ট তিনি অবসরে যান। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি সপরিবারে পেশকার বাড়ির একটি ভবনে ভাড়া থাকতেন।স্থানীয়দের মতে, অবসরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
ঘটনার সময় নাছির আহমদের স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী বড় ছেলে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন।বাসায় ছিলেন কেবল নাছির ও তার কলেজপড়ুয়া ছোট ছেলে ইমরান হোসেন (২১)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন নাছির। রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় ইমরান প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন।
পেছনে দা নিয়ে ধাওয়া করেন নাছির। এসময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। অন্য এক ভাড়াটিয়া এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন।
তিনজনকে রক্তাক্ত করার পর নাছির আহমেদ দ্রুত ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে উঠে যান। সেখান থেকে তিনি নিচে ঝাঁপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দা হাতে তিনি কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানান, হাসপাতালে আনা চারজনের মধ্যে নাছির আহমেদ মারা গেছেন। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে ইমরান ও স্বপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে আমরা ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করি এবং নাছির আহমেদকে আটক করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমরা যতটুকু শুনেছি তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

আরও পড়ুন