২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিলিতে দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সেখানে অন্তত ২৪টি সক্রিয় বনাঞ্চলের আগুন জ্বলছে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক রবিবার জানান, এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে রাতের কারফিউও জারি করা হয়েছে।
এর আগে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী লুইস কোরদেরো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এই দুটি অঞ্চল রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং আগুনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এখানেই দেখা গেছে।রবিবারই প্রেসিডেন্ট বোরিক বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নেভানোর কাজে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও যুক্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে।এই দুই শহরে মোট প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস।
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিসালদে বলেন, আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি, বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি।’ দাবানলে এখন পর্যন্ত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিলির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বারবার ভয়াবহ দাবানল দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে দেশটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট বোরিক এ ঘটনাকে ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর চিলির সবচেয়ে বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছিলেন।সূত্র : আলজাজিরা

আরও পড়ুন