২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে বেওয়ারিশ ১৫ হাজার কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরে জলাতঙ্কমুক্ত করতে ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি মাসের নির্ধারিত ছয় দিনের এই কর্মসূচিতে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনা হবে। সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন দুপুরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বেওয়ারিশ কুকুরদের ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা প্রমুখ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাধান করতেই আমরা কুকুর নিধনের পথ পরিহার করে ভ্যাকসিনেশনের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কোনো একটি এলাকায় যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুর ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসে, তবে সেখানে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়। এর ফলে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিস্তার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
জলাতঙ্ক রোগ প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না, ভাইরাস বহনকারী কুকুরের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থাকে। তিনি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ি, সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা এবং চলাফেরায় অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন।এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে ওই কুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র বলেন, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। নিয়মিত ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে পোষা কুকুর ও বিড়ালকেও নিরাপদ রাখতে হবে। এ বিষয়ে নগরবাসীর সচেতন সহযোগিতা ছাড়া আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন