১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রুড অয়েল সংকট : বন্ধ হয়ে গেলো ইস্টার্ন রিফাইনারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটের কারণে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল)-এর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ অন্তত ১৬ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়েছে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল মজুত না থাকায় দুপুর থেকে তিনটি ইউনিটের মধ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনকারী দুটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে রোববার বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় চলতি মাসের শুরু থেকেই শোধনাগারটি কাঁচামালের সংকটে ভুগছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ এপ্রিল থেকে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম জানান, অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইআরএল ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন—সবই এই ইউনিটে তৈরি হয়, যা এখন বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কেবল বিটুমিন উৎপাদন সীমিত আকারে চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তৃতীয় ইউনিটে সীমিত পরিসরে বিটুমিন এবং অল্প পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার টনসহ মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানো। তবে নতুন চালান পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ১৮ এপ্রিল প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল জাহাজে তোলা হবে, যা ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তখন পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় দেড় লাখ টন এবং পরিশোধিত তেল সংরক্ষণ ক্ষমতা আড়াই লাখ টন।অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি জানিয়েছে, শোধনাগার বন্ধ থাকলেও দেশে পরিশোধিত ডিজেল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ থেকেই ইআরএলের ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে। পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করেও উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন হলেও সংকটকালে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএলে পরিশোধন করা হয়।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ইস্টার্ন রিফাইনারি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

 

আরও পড়ুন