নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে আটকে আছে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজ।নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের ডাকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছিল। এর মধ্যেই অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করায় লাগাতার অচলাবস্থা তৈরি হল বন্দরে।এর ফলে, গত দুদিন ধরে টানা চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেউ কাজে যোগ দেননি।
বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ সব জেটিতে অপারেশাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।
বন্দর সূত্র জানায়, কর্মবিরতির সমর্থনে ডক শ্রমিকরাও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এর ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় পাইলটরা বহির্নোঙ্গরে যেতে পারছেন না। এতে বহির্নোঙ্গর থেকে জেটিতে জাহাজ আসা বন্ধ আছে।জেটিতে এবং বহির্নোঙ্গরে অন্ত:ত ৯টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমাণ আছে বলে সূত্র জানায়।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ।
তৃতীয়দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে।
এ অবস্থায় সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।
বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের ঘোষণা না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’




