১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি আধাপাকা বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ফাটাপাড়া গ্রামের মৃত মকবুলের ছেলে মো. কালামের (৫০) বাড়ির একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন সদর উপজেলার রানীহাটী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপর ধুমিহায়াতপুর (ধামার মোড়) গ্রামের মোয়াজ্জেমের ছেলে আল আমিন (২০) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার গোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুথুনিপাড়া গ্রামের মো. মুনিরের ছেলে জিহাদ (১৭)। আহতরা হলেন ফাটাপাড়া গ্রামের জেনারুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ (২২), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান (২০) এবং উপর ধুমিহায়াতপুর গ্রামের রাফিজুল ইসলামের ছেলে শুভ (২০)। স্থানীয় সূত্র, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে ফাটাপাড়া গ্রামের মৃত মকবুলের ছেলে মো. কালামের (৫০) বাড়ির একটি কক্ষে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।এতে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই ককটেল তৈরিতে জড়িত ছিল। বিস্ফোরণে নিহতদের দেহ ও মুখমণ্ডল ঝলসে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় বিকেল ৩টার দিকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।ঘটনার পর রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।এদিকে নির্বাচনে পরাজিত সদর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগ করেন শুক্রবার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন (মেম্বার)-এর বাড়িতে ঘটনার সূত্রপাত হলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি সাবেক ইউপি চেয়াম্যান ওমর আলী ও সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামও সালানোর চেষ্টা করেন।কিন্তু শনিবার সকালে ইউনিয়নে বড় গোলমালের পরিকল্পনা করা হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রস্ততি নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, শনিবার সকালে ইউনিয়নে বড় ধরনের গোলযোগের পরিকল্পনা ছিল এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।তবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিকী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত ছাড়াই জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং জামায়াত সন্ত্রাসের শিকার। হতহতরা সন্ত্রাসী। জামায়াতের লোক নয় বলেও দাবি করেন জামায়াত সেক্রেটারি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জড়িতরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন