৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমাকে ও ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করুন : বগুড়ায় তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে নিজের জন্য এবং বগুড়ার অন্যান্য আসনগুলোর প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চান তিনি।এদিন রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে ঐতিহাসিক আলতাফুননেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তিনি। এর পর রাত ১২টা ২২ মিনিটে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া শহরে বিশাল জনতার স্রোতের মধ্য দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। লাখো জনতা গগণবিদারি স্লোগানে তাকে বরণ করেন। প্রায় ১৯ বছর পর তিনি বগুড়া আসেন। তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বক্তব্যের শুরুতে ১৯ বছর পর বগুড়া আসতে পেরে তিনি শুকরিয়া আদায় করেন। বগুড়া জেলা বিএনপি সমাবেশের আয়োজন করে। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এতে সভাপতিত্ব করেন।বগুড়ার ৬টি আসনে ধানের শীর্ষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি দানের শীর্ষের পক্ষ ভোট প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ এই মুহূর্তে আমার আপনাদেরকে কিছু দেবার নাই। এই মুহূর্তে আপনাদের (বগুড়াবাসী) কাছে শুধু আমার চাইবার আছে। ঘরের মানুষ এই যে, আমি এত রাত্রে যে মিটিং করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এ যে কাজ করছি… আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন, আমি কিন্তু পারতাম না। উনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি।
ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে যদি মানসিকভাবে শক্তি সমর্থন আপনারা দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটা সুন্দর ভালো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। কাজেই আমি আপনাদের কাছে চাইতে এসেছি আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা, আপনাদের দোয়া, আপনাদের কাছ থেকে আমি চাইতে এসেছি।
তিনি বলেন, আমরা কাজ না করলে আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারব না। সবসময় প্রত্যেক জায়গায় বলেছি, সেই কথাটা হচ্ছে, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আপনাদের দোয়া চাইতে এসেছি, দোয়া করবেন এবং আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বগুড়া জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি গ্রাম, প্রত্যেকটি উপজেলা, প্রত্যেকটি পৌরসভার, প্রত্যেকটি মানুষের কাছে আমি দোয়া চাই, যাতে আপনারা বগুড়ার প্রত্যেকটি মানুষ আমাকে আপনাদের এই সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে যাতে আপনারা গর্ব করতে পারেন, সেই দোয়া আমাকে করবেন। আমাকে নিয়ে যাতে আপনারা অহংকার করতে পারেন, সেই দোয়া আপনারা করবেন।
নওগাঁ থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে পথে নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই ধারে সমবেত হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সেই কারণে তা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ে লেগে যায়।
বগুড়া শহরে দিয়ে নিজের নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে তারেক রহমান আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে পৌঁছান। এই সময়ে পুরো সমাবেশ স্থল স্বাগত স্লোগানে সরব হয়ে উঠে। তারেক রহমান মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এই সময়ে মঞ্চে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।তারেক রহমান মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।নিজের নির্বাচনী এলাকায় এই নির্বাচনী জনসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা এসেছেন। কেউ কেউ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এসেছে তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় চালাতে।
গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম বগুড়া আসলেন তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এক শোকসভায় যোগ দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ বগুড়া সফর স্থগিত করেন তারেক রহমান।
নির্বাচনী জনসমাবেশে বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া –৩ আসনে আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনে মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনে প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া -৭ আসনের মোরশেদ মিলটনকে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
‘বগুড়াকে বিতর্কিত করা যাবে না’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ চায় তো সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে… পারবেন… ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আর চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাআল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। যেহেতু আমরা নিশ্চয়ই চাইব না যে অন্য কেউ আমাদেরকে কোনো বিতর্কিত অবস্থান ফেলুক যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে আমরা বগুড়া না বলে পাচ্ছি না… আমরা কি চাই এরকম বলুক মানুষ?তিনি বলেন, আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না। সেজন্যই বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবেন।
তারেক রহমান বলেন, কেমন আছেন আপনারা সবাই? আমি প্রথমেই আজকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই। কারণ, আজকে প্রায় ১৯ বছর পরে আল্লাহ আমাকে আবার তৌফিক দিয়েছেন এই, নিজের ভূমিতে ফিরে আসার। প্রিয় বগুড়াবাসী নিজের ঘরে এসে কী বলব? আসলে আমি নিজেও একটু তাল হারিয়ে ফেলেছি, নিজেও অনেকটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি।
তারেক রহমান বলেন, আমি সেজন্য নির্বাচনী জনসভা বক্তব্য রাখার কথা কিন্তু কি বক্তব্য আমি রাখব ঠিক আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না। ঘরের মানুষের কাছে তো বলবার কিছু নেই। আছে কিছু ঘরের মানুষের কাছে বলবার?
২০০১-২০০৫ সালে বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে বগুড়া সদর সহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যেই কাজগুলো করা দরকার ছিল, আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজগুলো কমবেশি করার জন্য। হয়ত আমরা শতভাগ সাকসেসফুল হইনি, কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন কানুন ও রীতিনীতির মধ্য থেকে সম্ভব হয়েছে, আমরা চেষ্টা করেছি। এই বনানী মাটিডালি রাস্তায় বলুন, এই যে চওড়া রাস্তা বলুন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ বলুন, গ্যাসের লাইনের কথা বলুন, এরকম আরো বিভিন্ন উন্নয়নের কাজের কথা বলুন না কেন যা যা মানুষের প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করেছি।
তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদেরকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। কারণ এই নির্বাচন আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দেবে যে আগামী দিনে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত কাঙিক্ষত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে এবং তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলার নেতারা বক্তব্য দেন।
উত্তরাঞ্চল ৩ দিনের সফরের দুপুরে তারেক রহমান ঢাকা থেকে বিমান যোগে রাজশাহী পৌঁছান। রাজশাহী মাদরাসা মাঠে এবং নওগাঁ এটিম মাঠে দুইটি নির্বাচনী জনসভা করে রাতে বগুড়ায় আসলেন তিনি।রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান বগুড়া নাজ হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন।শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরে পীরগঞ্জ যাবেন ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেনে তিনি।

আরও পড়ুন