২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেবে মায়ানমার সরকার

অনলাইন ডেস্ক : মায়ানমারের সামরিক সরকার (জান্তা) রবিবার ঘোষণা দিয়েছে, দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে ছয় হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় হাজার হাজার প্রতিবাদকারী ও রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থান মায়ানমারের স্বল্পস্থায়ী গণতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং ৬ হাজার ১৩৪ মায়ানমারের নাগরিক বন্দিকে ক্ষমা করেছেন।
পৃথক আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫২ জন বিদেশি বন্দিকেও মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। নিরাপত্তা পরিষদের মতে, ‘মানবিক ও সহানুভূতিশীল বিবেচনায়’ এই বার্ষিক সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হচ্ছে। এ বছর মায়ানমার ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার ৭৮ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।
রবিবার ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারের বাইরে শত শত মানুষ তাদের স্বজনদের মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক।
অনেকের হাতে বন্দিদের নাম লেখা কাগজ দেখা যায়। কারাগারের বাইরে অপেক্ষারত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার বাবার মুক্তির অপেক্ষায় আছি। রাজনীতি করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘তার সাজা প্রায় শেষের পথে।আশা করছি, খুব শিগগিরই তিনি মুক্তি পাবেন।’ নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। ইনসেইন কারাগারটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের অভিযোগে কুখ্যাত।
নির্বাচনে এগিয়ে সেনা–সমর্থিত দল
এদিকে, এক সপ্তাহ আগে মায়ানমারের সামরিক সরকার ধাপে ধাপে এক মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচন শুরু করেছে। জান্তা নেতারা দাবি করেছেন, এই নির্বাচন দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।তবে মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা এই নির্বাচনকে ভুয়া বলে নিন্দা করেছেন এবং একে সামরিক শাসনের নতুন রূপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সেনা–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। শনিবার ও রবিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ঘোষিত নিম্নকক্ষের আসনের প্রায় ৯০ শতাংশে জয় পেয়েছে ইউএসডিপি।
রাষ্ট্রায়ত্ত পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইট অব মায়ানমারে–এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত ৯৬টি আসনের মধ্যে ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে ৮৭টিতে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপি মূলত সামরিক বাহিনীর একটি বেসামরিক মুখপাত্র দল। ছয়টি জাতিগত সংখ্যালঘু দল মোট নয়টি আসনে জয় পেয়েছে। প্রথম ধাপের ভোটে ছয়টি টাউনশিপের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচনের বাকি দুই ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি।
সুচির দল নির্বাচনে নেই
সাবেক নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তারা নির্বাচনের ব্যালটে নেই। অভ্যুত্থানের পর থেকেই অং সান সু চি কারাবন্দি রয়েছেন।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে এনএলডি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে ইউএসডিপিকে পরাজিত করেছিল। সেই ফলাফল বাতিল করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।
জান্তা দাবি করেছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল যোগ্য ভোটারের ৫০ শতাংশের বেশি। তবে এটি ২০২০ সালের নির্বাচনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তুলনায় অনেক কম। এর আগে, গত নভেম্বর মাসে নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাধারণ ক্ষমায় অং সান সু চির একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীসহ শত শত বন্দিকে মুক্তি দেয় জান্তা সরকার। ওই সময় সরকার জানায়, অভ্যুত্থানের পর মুক্ত মতপ্রকাশ সীমিত করে প্রণীত আইনে দণ্ডিত তিন হাজারের বেশি বন্দির সাজা বাতিল করা হবে।সূত্র : ইরাবতী

আরও পড়ুন