২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৬শ’টি কম্বল বিতরণ চট্টগ্রামের ডিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: থার্টি ফার্স্ট নাইটে নগরের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৬শ’টি কম্বল বিতরণ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দিবাগত রাতে নগরের দামপাড়া, ষোলশহর, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী, লালদিঘী এবং জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকার অসহায় শীতার্তদের এ শীতবস্ত্র তুলে দেন তিনি।
এসময় নগরের মহসীন কলেজ এলাকায় ফুটপাতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থায়ী পুনর্বাসনের কথা জানান তিনি। এছাড়া, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দুই পথশিশু সারারাত না খেয়ে থাকার কথা জানতে পেরে তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ জানান, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। মহসীন কলেজের সামনে বসে ভিক্ষা করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করেন। প্রতিদিন ৫০ টাকায় আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে খেতে হয়। মেয়ের মাছ বা মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ করতে পারেন না। কোনো কোনো দিন কেউ বেশি সাহায্য করলে মেয়ের জন্য একটু ভালো খাবার কিনে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় জীবনযাপন করা এই বাবা-মেয়ের ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন জেলা প্রশাসক। তিনি আব্দুল মজিদকে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং অফিসে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমার নিজেরও একটি মেয়ে আছে। শীতার্ত ইয়াসমিনকে দেখে আমার নিজের সন্তানের নিষ্পাপ মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন পিতা হিসেবেও আমার মনে হয়েছে। এই শিশুটির জন্য কিছু করা উচিত।’তিনি বলেন, ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শহরের অনেক মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন! অথচ এই শহরেই কিছু শিশু একবেলা খাবার পায় না।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন