২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান—দাবি ট্রাম্পের

এএফপি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে এবং তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে গত বছর মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত।
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইতিমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও আমাদের বিদেশি ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’
তবে বুধবার ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন দাবিকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাঘাই বুধবার ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।তিনি এক্সে লেখেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জানুয়ারির অস্থিরতায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তারা যা অভিযোগ করছে, তা কেবল বড় মিথ্যার পুনরাবৃত্তি।’২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি জানিয়েছিল, ‘তেহরান যদি এ সক্ষমতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়’, তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিকভাবে কার্যকর আন্ত মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন করতে পারে—তবে তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না তা উল্লেখ করেনি।মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কাছে বর্তমানে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১,৮৫০ মাইল।যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ইরানের পশ্চিম প্রান্ত থেকে ছয় হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত।ওয়াশিংটন ও তেহরান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করা চুক্তির পরিবর্তে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন